• ব্যবসায়
  • অর্থবছরের প্রথমার্ধে পোশাক রফতানিতে ধাক্কা, ডিসেম্বরে বড় ধস

অর্থবছরের প্রথমার্ধে পোশাক রফতানিতে ধাক্কা, ডিসেম্বরে বড় ধস

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
অর্থবছরের প্রথমার্ধে পোশাক রফতানিতে ধাক্কা, ডিসেম্বরে বড় ধস

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, এ সময় আরএমজি রফতানি হয়েছে ১৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিটওয়্যার ও ওভেন— উভয় ক্যাটাগরিতেই রফতানি কমেছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে নিটওয়্যার রফতানি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ২২ শতাংশ কম। অপরদিকে, ওভেন পোশাক রফতানি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার, কমেছে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ।

ডিসেম্বরে বড় ধস বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে আরএমজি ররফতানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। একক মাস হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বরে পোশাক রফতানি হয়েছে ৩ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা ডিসেম্বর ২০২৪ সালের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ কম। ডিসেম্বরে নিটওয়্যার রফতানি হয়েছে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার—বার্ষিক ভিত্তিতে কমেছে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সময়ে ওভেন পোশাক রফতানি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে, যার প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।

ধারাবাহিক পতনের চিত্র পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্ট থেকেই রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়। আগস্টে মোট আরএমজি রফতানি কমে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে কমে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অক্টোবরে পতন আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নভেম্বরে কমে ৫ শতাংশ। ডিসেম্বরে এসে সেই পতন দ্বিগুণ হয়ে যায়, যা সার্বিকভাবে অর্থবছরের প্রথমার্ধের প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচক করে তুলেছে।

কেন এই চাপ? খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ সুদহারজনিত ভোক্তা ব্যয় সংকোচন, অর্ডার কমে যাওয়া এবং মূল্যছাড়ের চাপ— সব মিলিয়েই রফতানিতে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, উৎপাদন ব্যয় ও ডলার সংকটজনিত আর্থিক চাপও কারখানাগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের (বিএই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএ সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “রফতানির এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে—বাজার পুনরুদ্ধার এখনও টেকসই হয়নি। বিশেষ করে ডিসেম্বরে নিটওয়্যার ও ওভেন— দুই ক্যাটাগরিতেই বড় পতন সতর্কবার্তা দিচ্ছে।”

সামনে চ্যালেঞ্জ অর্থবছরের বাকি ছয় মাসে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে নতুন অর্ডার নিশ্চিত করা, মূল্য প্রতিযোগিতা সামাল দেওয়া এবং বাজার বহুমুখীকরণে জোর দেওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নীতি সহায়তা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি না এলে আরএমজি খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

Tags: অর্থবছর প্রথমার্ধে পোশাক রফতানি ধাক্কা ডিসেম্বরে বড় ধস