শীতের আগমন মানেই বাতাসে আর্দ্রতার অভাব এবং ত্বকের স্বাভাবিক জৌলুস হারিয়ে যাওয়া। এই সময়ে শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের চিকিৎসায় যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে গ্লিসারিন। তবে অনেকেই সরাসরি ত্বকে গ্লিসারিন ব্যবহার করেন, যা সঠিক পদ্ধতি নয়। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্লিসারিনের সঠিক ব্যবহার ও এর উপকারিতা নিয়ে আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
কেন ব্যবহার করবেন গ্লিসারিন? গ্লিসারিন মূলত একটি প্রাকৃতিক হিউমেকট্যান্ট, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা শুষে নিয়ে ত্বকের গভীরে ধরে রাখে। এটি বর্ণ ও গন্ধহীন একটি ঘন তরল। এটি ত্বকের কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা জনিত চুলকানি বা ফুসকুড়ি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে শীতের দিনে যখন সাধারণ লোশন বা ক্রিম বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না, তখন গ্লিসারিন দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দেয়।
সরাসরি গ্লিসারিন ব্যবহার কি ক্ষতিকর? চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি বা ‘আনডাইলুটেড’ গ্লিসারিন ত্বকে লাগানো উচিত নয়। এটি অত্যন্ত ঘন হওয়ায় ত্বকের ভেতরের স্তরের পানি টেনে বের করে আনতে পারে, ফলে উল্টো ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই গ্লিসারিন ব্যবহারের আগে সবসময় পানি বা গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে নিতে হবে।
ব্যবহারের ৩টি কার্যকর পদ্ধতি ১. টোনার হিসেবে: ১ ভাগ গ্লিসারিনের সঙ্গে ৩ থেকে ৫ ভাগ গোলাপ জল মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে সংরক্ষণ করুন। রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করে এই মিশ্রণটি টোনার হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক সজীব থাকবে। ২. পা ফাটা দূর করতে: শীতকালে গোড়ালি ফাটার সমস্যা খুব সাধারণ। ১ চামচ গ্লিসারিন ও ২ চামচ ভ্যাসলিন (পেট্রোলিয়াম জেলি) মিশিয়ে রাতে পায়ে মেখে মোজা পরে ঘুমালে কয়েকদিনেই পা ফাটা কমে আসবে। ৩. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য: যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা ১ চামচ গ্লিসারিনের সঙ্গে সামান্য পাতিলেবুর রস ও পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকের কালচে ভাব দূর হবে এবং অতিরিক্ত তেল জমা রোধ হবে।
সতর্কতা ও টিপস গ্লিসারিন ব্যবহারের পর খুব বেশি চটচটে ভাব মনে হলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এছাড়া রোদে যাওয়ার আগে গ্লিসারিন না মাখাই ভালো, কারণ এটি ধুলোবালি বেশি আকর্ষণ করতে পারে। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে প্রতিদিন গোসলের পর বা রাতে ঘুমানোর আগে গ্লিসারিন মিশ্রণ ব্যবহার করুন।