• আন্তর্জাতিক
  • মাদুরোর অপহরণ ও ট্রাম্পের ‘সামরিক হুমকি’: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সহযোগিতামূলক সম্পর্ক’ চাইলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

মাদুরোর অপহরণ ও ট্রাম্পের ‘সামরিক হুমকি’: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সহযোগিতামূলক সম্পর্ক’ চাইলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মাদুরোর অপহরণ ও ট্রাম্পের ‘সামরিক হুমকি’: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সহযোগিতামূলক সম্পর্ক’ চাইলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এলেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ‘এজেন্ডা অব কো-অপারেশন’ চান তিনি; ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ।

কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সহযোগিতার আবেদন

ভেনেজুয়েলার তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে নিজেদের আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ (Delcy Rodriguez)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুমকির পরই কার্যত সুর নরম করে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ‘সহযোগিতামূলক সম্পর্ক’ (Co-operative Relationship) চেয়েছেন তিনি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, “ভেনেজুয়েলা এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ‘এজেন্ডা অব কো-অপারেশন’ (Agenda of Co-operation) কর্মসূচি গ্রহণ করতে চাই। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হবে আন্তর্জাতিক আইন ও ফ্রেমওয়ার্ক (Framework) সম্পূর্ণভাবে মেনে পারস্পরিক উন্নয়ন।”

বিবৃতিতে তিনি আরও যোগ করেন, “ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্র এবং আমেরিকা অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে বলছি, আমাদের দেশ এবং জনগণ শান্তি এবং সংলাপ (Dialogue) চায়, যুদ্ধ নয়। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বরাবরই এই বার্তা দিয়ে এসেছেন এবং এই মুহূর্তে এটি পুরো ভেনেজুয়েলার বার্তা।”

ট্রাম্পের হুমকি এবং সম্পদের নিয়ন্ত্রণ

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগুয়েজের এই নাটকীয় অবস্থানের পরিবর্তন এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পরপরই। মাকিন সাময়িকী ‘দ্য আটলান্টিক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, দেলসি রদ্রিগুয়েজ কিংবা তার নেতৃত্বাধীন সরকার যদি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়—তাহলে ফের দেশটিতে সামরিক হামলা (Military Attack) হতে পারে।

ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে আরও স্পষ্ট করেন, ভেনেজুয়েলার বিপুল জ্বালানি তেল (Oil) ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় যুক্তরাষ্ট্র।

মাদুরোর অপহরণ ও নতুন সরকার

দেলসি রদ্রিগুয়েজের এই অবস্থান বদলের নেপথ্যে রয়েছে সপ্তাহান্তে ঘটে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ঘটনা। গত শনিবার শেষরাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে সেনা অভিযান (Military Operation) চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ‍যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে (Federal Prison) বন্দি আছেন।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পরই ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ঘোষণায় বলা হয়, সাংবিধানিক বিধি (Constitutional Mandate) অনুসারে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দেশে জাতীয় নির্বাচন (National Election) আয়োজন করতে হবে। ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীও সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে।

মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে দেলসি রদ্রিগুয়েজ কঠোর ভাষায় বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শক্তির নিষ্ঠুর অপব্যবহার (Cruel Misuse of Military Power) করেছে এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ তার জবাব দেবে।” রোববারের বিবৃতির মাধ্যমে তিনি পূর্বের সেই আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে কার্যত সরে এলেন।

Tags: donald trump oil control nicolas maduro venezuela delcy rodriguez us cooperation military threat agenda of cooperation federal prison