রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে নতুন চাপ ট্রাম্পের
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণে ভারত সরকারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হুঁশিয়ারি তিনি দিয়েছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রয়টার্স-এ প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “রাশিয়ার তেল ইস্যুতে তারা সহযোগিতা না করলে আমরা ভারতের ওপর শুল্ক বাড়াতে পারি।” মার্কিন President-এর এই মন্তব্য ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে Economic Tension তৈরি করতে পারে।
মোদিকে ‘ভালো মানুষ’ বলে ট্রাম্পের কূটনৈতিক মন্তব্য
একইসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিবাচক সুর বজায় রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ভারত ‘তাঁকে খুশি করতে চায়’।
ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা NIA জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারত মূলত আমাকে খুশি করতে চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ভালো মানুষ, তিনি একজন ভালো লোক। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করার বিষয়টি ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” এরপরই তিনি কঠোর সুর ফিরিয়ে এনে বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করে, এবং আমরা খুব দ্রুতই তাদের ওপর শুল্ক বাড়াতে পারি…”
হোয়াইট হাউস কর্তৃক প্রকাশিত একটি Audio Clip-এ শোনা যায়, Air Force One-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন যে, রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়টি যদি তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী সমাধান না হয়, তবে তিনি ভারতের ওপর ‘দ্রুত’ শুল্ক বাড়াতে পারেন।
শুল্কের History: শাস্তি হিসেবে ২৫% আরোপ
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম সাংবাদিকদের কাছে Information দেন যে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো নিয়ে কাজ করছে। গ্রাহাম বলেন, “আমি এক মাস আগে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে ছিলাম। তিনি শুধু এটিই বলতে চেয়েছেন যে ভারত কীভাবে রাশিয়ার তেল কেনা কমাচ্ছে। আর তিনি আমাকে প্রেসিডেন্টকে বলতে বলেছেন ২৫ শতাংশ শুল্ক শিথিল করতে।”
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আগে ভারতের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবে আরোপ করা হয়েছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের দিক থেকে ভারত অন্যতম সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। প্রথমে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, এরপর গত বছরের ৭ আগস্ট তা বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছায় এবং একই মাসের শেষদিকে তা ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়।
এদিকে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (Bilateral Trade Agreement - BTA) নিয়ে কাজ করছে। এই Trade Agreement-এর প্রথম ধাপ শিগগিরই চূড়ান্ত ও ঘোষণা করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই Agreement চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্পের এই Tariff-এর হুমকি কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।