• দেশজুড়ে
  • এলজিইডি’র ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’: প্রকৌশলীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপার্জিত অর্থে মানি লন্ডারিং মামলা

এলজিইডি’র ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’: প্রকৌশলীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপার্জিত অর্থে মানি লন্ডারিং মামলা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
এলজিইডি’র ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’: প্রকৌশলীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপার্জিত অর্থে মানি লন্ডারিং মামলা

নাটোরের সিংড়ায় গভীর রাতে তল্লাশিতে গাড়ির ডালা থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৩৭ লাখ টাকা; দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এজাহারে উঠে এল উৎসের ভয়াবহ তথ্য।

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপার্জনের অভিযোগ ও মামলা দায়ের

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একজন Executive Engineer-এর গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৩৭ লাখ টাকা যে সরাসরি দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জিত, তার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন Commission (দুদক)। এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযুক্ত প্রকৌশলীসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। এতে মূল অভিযুক্ত প্রকৌশলীর পাশাপাশি আরও দুজনকে সহায়তাকারী (aider) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি হলেন এলজিইডি গাইবান্ধার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলাম, যিনি বর্তমানে আগারগাঁও সদর দপ্তরে কর্মরত। অন্য দুই আসামি হলেন বাপ্পি কুমার দাস এবং তাঁর ছেলে রিন্তু কুমার দাস।

কীভাবে উপার্জিত হল এই বিপুল অর্থ?

দুদকের প্রাথমিক তদন্ত ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. ছাবিউল ইসলাম তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকার প্রকৃতি, উৎস এবং মালিকানা গোপন করার অসৎ উদ্দেশ্যেই টাকাগুলো ঢাকা-মেট্রো-ঘ-১২-৮৭৯৭ নম্বর গাড়িতে করে অন্যত্র সরানো হচ্ছিল। এই প্রক্রিয়ায়ই মানি লন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

গভীর রাতে তল্লাশি: রহস্যময় অর্থ উদ্ধার

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ গভীর রাতে। নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলায় রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ ও সেনাসদস্যদের একটি যৌথ দল নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল।

এই তল্লাশির সময় বগুড়া থেকে নাটোর অভিমুখী একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থামানো হয়। গাড়িটি তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়ির পেছনের ডালা (trunk) থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা দেখতে পান নিরাপত্তা সদস্যরা। তখন গাড়িতে থাকা আরোহী ছাবিউল ইসলাম নিজেকে গাইবান্ধা জেলার LGED-এর Executive Engineer হিসেবে পরিচয় দেন। সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে ও তাঁর গাড়ির চালককে তাৎক্ষণিকভাবে সিংড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি অবগত করা হয়। ইউএনও এবং সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাবিউল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, গাড়িতে ৩০ লাখ টাকা আছে এবং সেই টাকা তাঁর জমি বিক্রির।

তবে বাস্তবে গণনা করে দেখা যায়, গাড়িতে মোট ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা ছিল। এত বড় অঙ্কের টাকা কেন ব্যাংকিং চ্যানেলে বা অন্য বৈধ উপায়ে না পাঠিয়ে রাতের আঁধারে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

অবৈধ আয়কে বৈধ করার প্রচেষ্টাই মানি লন্ডারিং

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্থ যে দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত—তা প্রমাণিত হওয়ার কারণেই মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থকে বৈধ হিসেবে দেখানোর বা এর উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টার আইনি প্রক্রিয়াই হলো Money Laundering। প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম এবং তাঁকে সহায়তাকারীরা এই অপরাধ করেছেন বলে Commission মনে করছে। বর্তমানে Data এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

Tags: money laundering acc corruption natore dudok lg ed gaibandha engineer executive engineer