লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুমকি
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণের পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার আরও তিনটি দেশকে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন। এই দেশগুলো হলো মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবা।
শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের শয়নকক্ষ থেকে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে আনা হয় এবং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে (Federal Prison) রাখা হয়। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই এই নতুন সামরিক হুমকির বার্তা দেন ট্রাম্প।
Fox News-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে কলম্বিয়া-কে ‘টার্গেট’
প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার কয়েক ঘণ্টা পর ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম Fox News-কে টেলিফোনে এক সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার পর মার্কিন বাহিনী মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবাতেও সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এই তালিকায় তিনি সবার আগে কলম্বিয়ার নাম উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট কলম্বিয়া প্রসঙ্গে বলেন, “মাদুরো একজন মাদক সন্ত্রাসী এবং একই অভিযোগ প্রেসিডেন্ট পেত্রো’র (কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো) বেলাতেও প্রযোজ্য। আমরা শুনেছি প্রেসিডেন্ট পেত্রোর কোকেন কারখানা আছে। সেই কারখানায় যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের জন্য কোকেন Production করা হয়। এখন তার উচিত নিজের পশ্চাদ্দেশের দিকে তাকানো।”
কিউবাকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ এবং মেক্সিকোকে ‘গ্যাং-নিয়ন্ত্রিত’ আখ্যা
কিউবার প্রসঙ্গে ট্রাম্প দেশটির সরকারকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ (Failed State) হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন কিউবার জনগণকে সহযোগিতা করতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “কিউবায় এমন কিছু হতে চলেছে, যা শেষ হবে সংলাপের মধ্যে দিয়ে। কিউবা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু করবে— যা শেষ পর্যন্ত সেখানকার মানুষের উপকারে আসবে। আপনারা একে এভাবেও বলতে পারেন যে কিউবার জনগণকে সহযোগিতা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ যারা কিউবা থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে এবং এখনও যারা সেখানে বাধ্য হয়ে বসবাস করছে— আমরা তাদের সহযোগিতা করতে চাই।”
অন্যদিকে, মেক্সিকোর ব্যাপারে ট্রাম্পের প্রধান অভিযোগ— যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধী Gang-গুলোর ‘মূল আড্ডাখানা’ হলো মেক্সিকো এবং এই Criminal Gang-গুলোই দেশটি নিয়ন্ত্রণ করছে। ট্রাম্পের দাবি, প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ভয় পান।
তিনি আরও বলেন, “এই গ্যাংগুলো পুরো মেক্সিকো চালাচ্ছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট শিনবাউম তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ভয় পান। আমি বেশ কয়েক বার (প্রেসিডেন্ট শিনবাউমকে) জিজ্ঞেস করেছি, ‘আপনি কি আমাদের এই গ্যাংগুলো সামলানোর দায়িত্ব দেবেন?’ প্রতিবারই তিনি বলেছেন, ‘না, না, না জনাব প্রেসিডেন্ট। দয়া করে এমন করবেন না।”
লাতিন আমেরিকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ও হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান এবং নতুন হুমকির বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মেক্সিকো, কিউবা এবং কলম্বিয়া।
মেক্সিকো: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল একসময় শান্তির এলাকা ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে গুরুতর সংকটের মুখে ফেলতে চাইছেন।”
কিউবা: প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘কাপুরুষোচিত, অপরাধমূলক এবং বেঈমানিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়েছেন।
কলম্বিয়া: প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “কলম্বিয়া ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং আমরা আমাদের সাধ্যমত শক্তিসামর্থ্য দিয়ে যে কোনো মার্কিন আগ্রাসন মোকাবিলা করব।”
ট্রাম্পের এই হুমকি এবং লাতিন আমেরিকার এই প্রতিক্রিয়া বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।