ভেনেজুয়েলা ‘আমাদের এলাকা’: ট্রাম্পের ঐতিহাসিক দাবি
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করেছেন। স্থানীয় সময় রোববার (৪ জানুয়ারি) Air Force One-এ সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সরকার পরিবর্তন (Regime Change) এবং জাতি গঠন (Nation Building) নিয়ে তাঁর আগের বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দীর্ঘদিনের মার্কিন Foreign Policy ‘Monroe Doctrine’ অনুযায়ী ‘এটা আমাদের এলাকা’।
‘তেল যেখানে, সেখানেই আমাদের কাজ’
ট্রাম্প তাঁর সামরিক হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের আশপাশের দেশগুলো যেন টেকসই ও সফল হয়—এটাই আমাদের কাজ, আর যেখানে তেল আছে, সেখানে যেন তা অবাধে উত্তোলন করা যায়।” তাঁর এই মন্তব্য দক্ষিণ আমেরিকার তেল সম্পদের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কৌশলগত আগ্রহকে প্রকাশ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলাকে আবার ‘ফিরিয়ে আনতে’ হবে। একইসঙ্গে দেশটিকে তিনি ‘মৃত’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলার ‘অবকাঠামো ফিরিয়ে আনতে’ তেল কোম্পানিগুলোর বড় ধরনের Investment দরকার হবে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র নিজে কিছুই Invest করবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘দেশটির দেখভাল করবে’ এবং ‘মানুষদেরও (ভেনেজুয়েলানসহ...) যারা নিজের দেশ ছেড়ে এসে এখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন’—তাদের দেখভাল করবে।
দ্বিতীয় হামলার হুঁশিয়ারি এবং বন্দি মাদুরোর বর্তমান অবস্থা
আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রশাসনের বাকি সদস্যদেরও হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার পর ভেনেজুয়েলার বাকি Administration দেশটিকে ‘সুসংগঠিত’ করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা না করলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে দ্বিতীয়বার সামরিক হামলা চালাতে পারে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলায় একটি বিশেষ সামরিক অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে মার্কিন বাহিনী দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার রাতেই মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের Metropolitan Detention Center-এ অবস্থিত একটি বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়েছে।
মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়ার বিরুদ্ধে মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালানের গুরুতর অভিযোগ এনেছে। একইসঙ্গে মাদুরোপুত্র গুয়েরার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট সদস্য গুয়েরা ‘নিকোলাসিতো’ বা ‘রাজপুত্র’ নামেও পরিচিত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।