৪৬২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (Dudok)-এর করা মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দের (Seizure) প্রক্রিয়া শুরু হলো। দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।
সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আনিসুল হকের মোট ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ জব্দের আদেশ দেন।
জব্দের আদেশপ্রাপ্ত সম্পদের মধ্যে রয়েছে—চার কোটি ৬২ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গাড়ি এবং এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা মূল্যের ১৭ বিঘা জমি। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম আদালতে এই জব্দের আবেদন পেশ করেন।
মানি লন্ডারিং ও অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ
দুদক তাঁর আবেদনে জানায়, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি একজন Public Servant হিসেবে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো—২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্ঞাত আয়ের উৎসের (Known Sources of Income) সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনপূর্বক দখলে রাখা।
এছাড়াও, ২৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা ও ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক মনে করে, এই লেনদেন মানি লন্ডারিংয়ের (Money Laundering) মতো অপরাধে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বা সম্পত্তির উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তদন্তের স্বার্থে সম্পদ জব্দের প্রয়োজনীয়তা
দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব করার জন্য এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা অত্যন্ত জরুরি।
কারণ হিসেবে আবেদনে বলা হয়েছে, সম্পদগুলো জব্দ করা না গেলে তা বিক্রি বা হস্তান্তর করা হতে পারে, যা রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। আদালতের এই ক্রোকাদেশ (Attachment Order) Dudok-এর তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।