পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের ধারাবাহিক আক্রমণে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (PSTU) ক্যাম্পাসসহ উপজেলার বিভিন্ন জনপদে এই তাণ্ডব চলে। আহতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি, যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
দুই ঘণ্টার উন্মাদনা: আতঙ্কে থমকে যায় জনপদ
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে হঠাৎ করেই একটি পাগলা কুকুর পথচারীদের ওপর চড়াও হতে শুরু করে। সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা কুকুরটি পবিপ্রবি ক্যাম্পাস, শ্রীরামপুর, রাজাখালী, পিরতলা বন্দর, দুমকী ও জলিশা এলাকায় রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করে। সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড়ে রক্তাক্ত করেছে ওই হিংস্র কুকুরটি। এতে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় হাহাকার পড়ে যায় এবং মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে।
হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, নেই প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লুথ্যারান হেলথ কেয়ারে (Lutheran Health Care) নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই জরুরি পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন (Anti-Rabies Vaccine) মিলছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "হাসপাতালে বর্তমানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের মজুদ নেই। আমরা দ্রুততম সময়ে টিকা নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।"
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid) দিয়ে গুরুতর কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের ভুক্তভোগীরা।
আহতদের পরিচয়
ভয়াবহ এই হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন— আ. লতিফ মৃধ্যা (৮০), মফিজুর রহমান (৭০), জব্বার ঘরামী (৬০), মনোয়ারা বেগম (৫৫), ফরিদা বেগম (৫০), মাধবী রানী (৪০), মাহিনুর বেগম (৩৮), জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮), আব্দুল্লাহ (১৯), ইউসুফ, রিমা (২০), খোকন (৪০) এবং শিশু তানিয়া (সাড়ে ৩ বছর) ও নাইমুল (২)। এ ছাড়াও আরও অন্তত ২০ জন স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
যেভাবে অবসান হলো আতঙ্কের
কুকুরের কামড়ে একের পর এক আহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে অভিযানে নামে এলাকাবাসী। অবশেষে দুপুর ১২টার দিকে পবিপ্রবির নিরাপত্তাকর্মী, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় যুবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুকুরটিকে গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন হাওলাদার বাড়ির একটি ঘরে আটকে ফেলা হয়। সেখানেই সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেললে এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও সচেতনতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাগলা কুকুরের কামড়ের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। উপজেলা পর্যায়ে জীবন রক্ষাকারী এই ভ্যাকসিনের সংকট স্থানীয় জনস্বাস্থ্যকে (Public Health) ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিদ্রুত সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।