পেশাগত দায়িত্বের ঊর্ধ্বে উঠে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। এক নৃশংস হত্যা মামলার আসামির জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে তাকে নতুন জীবন দান করেছেন তিনি। পুলিশের এমন উদারতা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সহকর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আত্মহত্যার চেষ্টা জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে পাহাড়তলী এলাকায় পোশাক শ্রমিক ফাতেমা আক্তার বৈশাখীকে (১৯) ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার সাবেক স্বামী জয়নাল আবেদীনের (২৫) বিরুদ্ধে। এ সময় বৈশাখীর চাচা মিজানুর রহমান তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও জখম করে জয়নাল। ঘটনার পর প্রতিবেশীরা জয়নালকে ধাওয়া করলে তিনি নিজেই নিজের বুক ও পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে।
রক্ত সংকটে যখন জীবন সংকটাপন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জয়নালের শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পুলিশকে জানান, জয়নালকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে কয়েক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। শনিবার (৪ জানুয়ারি) জয়নালের পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন এএসআই রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। আসামির মুমূর্ষু অবস্থা দেখে তিনি আর দেরি করেননি। নিজের রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ হওয়ায় তিনি নিজেই এক ব্যাগ রক্ত দান করেন এবং পরে রক্ত ব্যাংক থেকে আরও এক ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করেন।
মানবিকতার জয় ও সহকর্মীদের প্রশংসা এএসআই রাশেদ বলেন, "সেবাই পুলিশের ধর্ম। একজন মানুষ যখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, তখন সে অপরাধী না নিরপরাধ—তা ভাবার সময় ছিল না। বিবেকের তাড়নায় এবং মানবতার খাতিরেই আমি রক্ত দিয়েছি।" তার এই মহতি কাজের প্রশংসা করে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসাইন বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় কাজ যা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া নিহত বৈশাখীর বাবা মোহাম্মদ আবুল বাশার ইতোমধ্যে পাহাড়তলী থানায় জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত জয়নাল বর্তমানে পুলিশি পাহাড়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সুস্থ হওয়ার পর তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।