জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের (Coalition) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার কোনো ‘পেশিশক্তির সন্ত্রাসী’ ভোটকেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করলে তাদেরকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার (Voting Rights) সুনিশ্চিত করতে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বিরাল্লা এলাকায় আয়োজিত ‘আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রায়’ অংশ নিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।
পেশিশক্তি রুখে ভোটাধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার
পদযাত্রায় বক্তৃতাকালে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন যে, এবার জনসাধারণ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ (Extortionist), লুটেরা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। তিনি বলেন, 'ভোটাধিকারের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (Priority)।' তাঁর মতে, ভোটাররা এবার কোনো সন্ত্রাসী বা পেশিশক্তির কাছে মাথা নত করবে না।
দুর্নীতি ও 'ভারতীয় আধিপত্যবাদের' বিরুদ্ধে ভোটের ডাক
ভোটারদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, 'ভোট তাদের বিরুদ্ধে দিবেন যারা দুর্নীতি করে, টেন্ডারবাজি (Tender-bidding) করে, মামলাবাজি করে।' তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, তাঁর দল এবং জোট ইনসাফের জন্য, দুর্নীতি (Corruption) এবং ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের’ বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য এবার ভোট দেবে। রাজনৈতিক পরিসরে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে তিনি ভোটারদের মধ্যে এক স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করেন।
ভোটারদের প্রতি কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান
ভোটারদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে জোট প্রার্থী বলেন, 'এবার আপনারা কেন্দ্র পাহারা দিবেন, কেন্দ্র দখল করতে আসলে তাদেরকে প্রতিহত করবেন।' কেন্দ্র সুরক্ষার এই আহ্বান দিয়ে তিনি মূলত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে (Democratic Process) রক্ষা করার উপর জোর দেন।
টাকার বিনিময়ে ভোট দেওয়ার প্রবণতা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, 'এবার আমরা টাকার কাছে বিক্রি হবো না। যে টাকা নিয়ে আসবে তাদেরকে আমরা প্রত্যাখ্যান করব।' নেতা ও ভোটারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: 'নেতা একদিন ভোটারদের পেছনে ঘুরে ১ হাজার টাকা নিয়ে, আর ভোটাররা পাঁচ বছর টাকা নিয়ে ঘুরে নেতার পেছনে।'
এদিন আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রায় হাসনাত আবদুল্লাহ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় জামায়াত এবং এনসিপি'র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।