সাংস্কৃতিক জীবনের শুরু ও নাটকে পদার্পণ শৈশব থেকেই সংস্কৃতিচর্চার প্রতি প্রবল টান ছিল আশরাফ ব্যাকুলের। কলেজজীবনে বন্ধু মিল্টন আহমেদের হাত ধরে ‘অন্বেষণ নাট্যগোষ্ঠী’তে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে মঞ্চনাটকে তাঁর হাতেখড়ি হয়। মঞ্চে নাটকের ভাষা ও দর্শন শিখতে শিখতেই তিনি উপলব্ধি করেন, টেলিভিশন নাটকে গল্প ও ভাবনার জায়গায় একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যেই তিনি কলম হাতে নেন এবং পরিচালকের আসনে বসেন।
আলোচিত নির্মাণসমূহ আশরাফ ব্যাকুল নির্মিত প্রথম নাটক ‘জোসনার বিয়ে’। এরপর তিনি একে একে নির্মাণ করেন ‘বড় মেয়ে’, ‘সুখের সংসার’, ‘দুই বোন’ এবং ব্যাপক আলোচিত নাটক ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান’। তাঁর নাটকগুলোতে সস্তা রোমান্স বা তথাকথিত 'হিরো-হিরোইন' কালচারের চেয়ে পরিবার, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক টানাপড়েন বেশি গুরুত্ব পায়।
মিডিয়া ও গল্পের দর্শন মিডিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশরাফ অকপটে বলেন, "এখানে গল্পের চেয়ে জুটি বা তথাকথিত হিরো-হিরোইন ধারণাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ প্রকৃত অর্থে গল্প যিনি বহন করেন, তিনিই হিরো—সে নারী হোক বা পুরুষ।” তিনি প্রচলিত স্রোতের বিপরীতে হেঁটে গল্পকেই মূখ্য করে তুলতে চান। তাঁর মতে, জাঁকজমক বা গ্ল্যামার নয়, একটি ভালো গল্পই শেষ পর্যন্ত দর্শককে ধরে রাখে।
নতুন বছরে নতুন কাজ ২০২৬ সালের শুরুতেই দর্শকদের জন্য একগুচ্ছ নতুন কাজ নিয়ে আসছেন এই নির্মাতা। ইউটিউবে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর নতুন নাটক ‘মা মনি’, ‘ফুলশয্যা’ এবং দর্শকপ্রিয় নাটকের সিক্যুয়েল ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান-২’। তিনি জানান, ‘মা মনি’ নাটকে একজন সিঙ্গেল মাদারের জীবনসংগ্রাম ও অসুস্থ সন্তানকে বাঁচানোর লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান-২’-এ সমসাময়িক রাজনীতির ভিড়ে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির আদর্শকে তুলে ধরা হয়েছে। দর্শকদের প্রতি তাঁর আহ্বান, “ভালো গল্পের নাটক বেশি করে দেখুন, তবেই নির্মাতারা মানসম্মত কাজ করতে উৎসাহ পাবেন।”