• প্রযুক্তি
  • অনলাইন প্রতারণা শনাক্তে গুগলের বড় চমক: এক ‘সার্কেল’-এই ধরা পড়বে স্ক্যাম মেসেজ

অনলাইন প্রতারণা শনাক্তে গুগলের বড় চমক: এক ‘সার্কেল’-এই ধরা পড়বে স্ক্যাম মেসেজ

প্রযুক্তি ১ মিনিট পড়া
অনলাইন প্রতারণা শনাক্তে গুগলের বড় চমক: এক ‘সার্কেল’-এই ধরা পড়বে স্ক্যাম মেসেজ

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় ‘সার্কেল টু সার্চ’ ফিচারে যুক্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা; সন্দেহজনক বার্তা ও লিঙ্কের ফাঁদ চিনিয়ে দেবে টেক জায়ান্ট গুগল।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন প্রতারণা বা Scam এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিদিন হাজারো স্মার্টফোন ব্যবহারকারী লটারি জয়, পণ্য সরবরাহ বা ব্যাংক লেনদেনের ভুয়া তথ্য সংবলিত বার্তা পেয়ে থাকেন। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারকেরা এখন এতটাই নিপুণভাবে বার্তাগুলো তৈরি করছে যে, সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে আসল ও নকলের পার্থক্য বোঝা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এই ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল। তাদের জনপ্রিয় ‘সার্কেল টু সার্চ’ (Circle to Search) ফিচারে যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI চালিত নতুন এক সুরক্ষা কবচ।

প্রতারকদের নতুন অস্ত্র: নিখুঁত ভাষা ও ছদ্মবেশ

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপরাধীদের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগে প্রতারণামূলক বার্তাগুলোতে বানানের ভুল বা অপেশাদার শব্দচয়ন দেখে সেগুলো শনাক্ত করা যেত। কিন্তু বর্তমানে স্ক্যামাররা অত্যন্ত পরিশীলিত ভাষা এবং নিখুঁত বানান ব্যবহার করছে, যা দেখে যেকোনো সচেতন মানুষও মুহূর্তের জন্য বিভ্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে নামী প্রতিষ্ঠানের আদলে পাঠানো এসব বার্তা ব্যবহারকারীদের ‘ফিশিং লিঙ্ক’-এ ক্লিক করতে প্ররোচিত করে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই গুগল তাদের ইকোসিস্টেমে এই নতুন Security Update যুক্ত করেছে।

সার্কেল টু সার্চ যেভাবে কাজ করবে

স্মার্টফোনে আসা কোনো বার্তা নিয়ে সন্দেহ হলে ব্যবহারকারীকে এখন আর সেটি কপি করে ব্রাউজারে গিয়ে খুঁজতে হবে না। গুগলের নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে মুহূর্তেই বার্তার সত্যতা যাচাই করতে পারবেন:

১. সন্দেহজনক বার্তাটি স্ক্রিনে থাকা অবস্থায় ফোনের হোম বাটন বা নেভিগেশন বার চেপে ধরে ‘সার্কেল টু সার্চ’ অপশনটি চালু করতে হবে। ২. এরপর আঙুল দিয়ে বার্তার নির্দিষ্ট অংশটি বৃত্তাকারভাবে চিহ্নিত (Circle) করলেই গুগল তার বিশাল ডেটাবেজ এবং AI-এর সহায়তে তথ্যটি বিশ্লেষণ করবে। ৩. যদি ওই বার্তাটি কোনো পরিচিত স্ক্যাম বা প্রতারণার প্যাটার্নের সঙ্গে মিলে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে ফোনের স্ক্রিনে একটি সতর্কবার্তা বা ‘Warning Sign’ ভেসে উঠবে।

এসএমএস থেকে হোয়াটসঅ্যাপ: সর্বত্র মিলবে নিরাপত্তা

গুগলের এই নতুন টুলের সবচেয়ে কার্যকর দিক হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। এটি কেবল সাধারণ এসএমএস বার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), মেসেঞ্জার বা টেলিগ্রামের মতো ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে পাওয়া সন্দেহজনক বার্তার ক্ষেত্রেও এই ফিচারটি ব্যবহার করতে পারবেন। সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে কোনো বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বা ফিশিং লিঙ্ক দেখলে সেটিও একইভাবে যাচাই করে নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রযুক্তি যখন ঢাল, সতর্কতা তখন তলোয়ার

গুগলের এই উদ্ভাবনী ফিচারটি ডিজিটাল নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখলেও বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তিগত সতর্কতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো AI টুলই শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে। তাই অপরিচিত নম্বর থেকে আসা যেকোনো লিঙ্কে ক্লিক করার আগে ‘Zero Trust’ পলিসি অনুসরণ করা উচিত। বিশেষ করে গিফট ভাউচার বা ক্যাশব্যাক জেতার মতো প্রলোভন দেখালে সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

গুগলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল দুনিয়ায় অপরাধীরা যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগও হচ্ছে সুদূরপ্রসারী। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচারটি একটি শক্তিশালী ‘ডিজিটাল শিল্ড’ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags: artificial intelligence tech news cyber security digital safety google search scam detection circle search google ai