তীব্র শীতে মেঝেতে শুয়ে কাটানো এক স্বজনহারা বৃদ্ধার দুর্ভোগের ইতি টানলেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সম্রাট হোসেন। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে বৃদ্ধাকে কম্বল দিতে গিয়ে তাঁর অসহায় জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন তিনি। এরপরই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আজ, বুধবার রাতে তিনি নিজেই নতুন একটি খাট নিয়ে হাজির হন সেই বাড়িতে। ইউএনও-এর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মণিরামপুর জুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর মানবিক 'ইমেজ' (Image) আরও সুদৃঢ় করেছে।
যেভাবে নজরে এলেন পূর্ণিমা মণ্ডল
রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা পূর্ণিমা মণ্ডল (নাম পরিবর্তিত) এক নিদারুণ কষ্টের জীবনযাপন করছিলেন। স্বজনহারা এই বৃদ্ধা তীব্র শীতের রাতেও মাটিতে সামান্য কাপড় বিছিয়ে ঘুমাতেন। শীত মোকাবিলায় তাঁর নিজস্ব কোনো ‘বেডিং সিস্টেম’ (Bedding System) ছিল না বললেই চলে। গত সোমবার রাতে যখন ইউএনও সম্রাট হোসেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকায় শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করছিলেন, তখনই তাঁর নজরে আসে পূর্ণিমা মণ্ডলের অসহায়ত্বের চিত্র। বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। একজন প্রবীণ নাগরিকের এমন জীবনযাপন দেখে দ্রুত এর স্থায়ী সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ইউএনও-র মানবিক ‘ইন্টারভেনশন’
স্বেচ্ছাসেবী বা সরকারি কোনো প্রকল্পের উপর নির্ভর না করে, ইউএনও সম্রাট হোসেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগেই পূর্ণিমা মণ্ডলের জন্য একটি নতুন খাট কেনার ব্যবস্থা করেন। বুধবার রাতে তিনি নিজেই সেই খাটটি নিয়ে রঘুনাথপুরে পূর্ণিমার বাড়িতে পৌঁছান। নতুন খাটটি ঘরে স্থাপন করে দেওয়ার পর আবেগাপ্লুত বৃদ্ধা ইউএনও-কে ধন্যবাদ জানান।
এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইউএনও সম্রাট হোসেন বলেন, "শীতে একজন মাটির ওপর ঘুমাবেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই সামান্য উদ্যোগ নেওয়া। পূর্ণিমা মণ্ডলের মাটিতে শোয়ার দুর্ভোগের অবসান হোক, এটাই আমাদের সকলের শুভকামনা।"
ইউএনও-র এই কাজ প্রমাণ করে যে, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রধান কাজ শুধু দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন নয়, বরং সমাজের দুর্বলতম অংশটির পাশে দাঁড়ানোও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ‘রোল’ (Role)। মণিরামপুরের নাগরিক সমাজ এই ধরনের সংবেদনশীল এবং ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ (Pro-Active) পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, ইউএনও-র এই দৃষ্টান্ত অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও মানবিক হতে অনুপ্রাণিত করবে।