ভেনেজুয়েলার মাটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অতর্কিত অভিযানে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) চালানো এই রক্তক্ষয়ী অভিযানের চার দিন পর ভয়াবহ এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির শক্তিশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওয়াসদাদো ক্যাবেলো। স্থানীয় সময় বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই তথ্য জানান।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি আটক
শনিবারের ওই বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। ক্যাবেলোর দাবি অনুযায়ী, অভিযানের সময় মাদুরো হাঁটুতে এবং তার স্ত্রী মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। আটকের পর তাদের দ্রুত একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে (Warship) তুলে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে সরাসরি নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার তাদের বিরুদ্ধে ‘Drug Trafficking’ বা মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মার্কিন আদালতে তোলা হলে দুজনেই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
নিহতের তালিকায় কিউবার গোয়েন্দারাও
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর এই অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কারাকাস আগে ২৩ জন সেনা সদস্যের মৃত্যুর কথা জানালেও ক্যাবেলোর সর্বশেষ তথ্যে নিহতের সংখ্যা ১০০ বলে জানানো হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে কিউবা; তারা জানিয়েছে যে, ভেনেজুয়েলায় মোতায়েন থাকা তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগের (Intelligence) অন্তত ৩২ জন সদস্য এই হামলায় নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের অভিযোগ, মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইউনিটের সদস্যদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ‘ঠান্ডা মাথায়’ হত্যা করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন শাসন ও শোক ঘোষণা
এই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস। তিনি মার্কিন অভিযানে নিহত সামরিক সদস্যদের স্মরণে দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাবেলো এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ডেলসি রদ্রিগেসের প্রশংসা করে তাকে এই সংকটময় মুহূর্তের ‘সাহসী নেতৃত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশে এই সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপ বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। মাদক পাচারের অভিযোগে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে মাদুরো সমর্থকরা। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দাবি—অঞ্চলটিতে মাদক সম্রাটদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেই এই ‘Special Operation’ চালানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়।