• জীবনযাপন
  • খাওয়ার সময় গলায় অস্বস্তি বা বুকে ব্যথা? সাধারণ 'অ্যাসিডিটি' ভেবে ভুল করলেই হার্ট বা লিভারের বড় বিপদ!

খাওয়ার সময় গলায় অস্বস্তি বা বুকে ব্যথা? সাধারণ 'অ্যাসিডিটি' ভেবে ভুল করলেই হার্ট বা লিভারের বড় বিপদ!

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
খাওয়ার সময় গলায় অস্বস্তি বা বুকে ব্যথা? সাধারণ 'অ্যাসিডিটি' ভেবে ভুল করলেই হার্ট বা লিভারের বড় বিপদ!

দীর্ঘস্থায়ী 'ডিসফ্যাগিয়া' হতে পারে খাদ্যনালীর ব্লকেজ বা শরীরের অভ্যন্তরীণ জটিল রোগের পূর্বাভাস; সময় থাকতে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই খাওয়ার সময় গলায় সামান্য অস্বস্তি, বুক জ্বালাপোড়া কিংবা খাবার গিলতে গিয়ে যন্ত্রণার সম্মুখীন হই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একে সাধারণ ‘গ্যাস-অম্বল’ বা 'অ্যাসিডিটি' (Acidity) ভেবে আমরা অবহেলা করি। ঘরোয়া টোটকা কিংবা দোকান থেকে কেনা এন্টাসিড খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, এই সমস্যাটি আসলে আপনার শরীরের কোনো বড় বিপদের আগাম সংকেত হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, খাওয়ার সময় এই ধরনের কষ্ট বা ‘ডিসফ্যাগিয়া’ (Dysphagia) দীর্ঘস্থায়ী হলে তা হার্ট, লিভার এমনকি খাদ্যনালীর মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অ্যাসিডিটি নাকি জটিল রোগ: পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে?

সাধারণত অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খেলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স (Acid Reflux) হতে পারে। কিন্তু যদি দেখেন খাবার গিলতে গিয়ে নিয়মিত ব্যথা হচ্ছে কিংবা মনে হচ্ছে খাবার গলার কাছে আটকে আছে, তবে বিষয়টি মোটেও সাধারণ নয়। চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যনালীর ইনফেকশন, কোনো ধরনের স্নায়বিক সমস্যা কিংবা খাদ্যনালীর ভেতর কোনো সূক্ষ্ম ব্লকেজ (Blockage) থাকলে এমনটা হতে পারে। অনেক সময় হার্টের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও বুকে চাপের অনুভূতি হতে পারে, যা খাওয়ার সময় প্রকট হয়। এছাড়া লিভারের জটিলতা বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের ফলেও পরিপাকতন্ত্রে বাধা সৃষ্টি হয়ে গলায় অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

সতর্ক না হলে হতে পারে বড় ক্ষতি

খাদ্যনালীর এই সমস্যাকে অবহেলা করলে তা পরবর্তীতে মারাত্মক রূপ নিতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক ডায়াগনোসিস (Diagnosis) না হলে এটি খাদ্যনালীর সঙ্কোচন বা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত সৃষ্টি করে। এমনকি এর থেকে আলসার বা ক্রনিক সমস্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই গিলতে গিয়ে কষ্ট হওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী বুক জ্বালাপোড়াকে হালকাভাবে নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন

জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন:

১. ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া: খাবার খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। প্রতিটি গ্রাস খুব ভালো করে চিবিয়ে (Chewing) মণ্ডের মতো করে গিলুন। এতে খাদ্যনালীর ওপর চাপ কম পড়ে। ২. পানির সঠিক ব্যবহার: খাওয়ার ঠিক মাঝখানে বা পরপরই অনেকটা পানি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। খাওয়ার সময় অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে পানি খান, যা খাবার নামতে সাহায্য করবে। ৩. ঘরোয়া সমাধান: খাওয়ার পর হালকা গরম পানি বা আদা চা (Ginger Tea) পান করলে খাদ্যনালীর প্রদাহ কমে এবং হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। ৪. পরিমিত আহার: একবারে খুব বেশি না খেয়ে অল্প পরিমাণে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বনের পরেও সমস্যাটি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (Gastroenterologist) পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এন্ডোস্কোপি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্য বিষয়ে সময়োচিত সচেতনতাই পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে। অবহেলা নয়, শরীরকে বুঝুন এবং সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করুন।

Tags: health tips healthy eating digestive health heart health medical advice lifestyle change dysphagia symptoms acid reflux liver danger esophagus problem