ইংলিশ ফুটবলের প্রাচীনতম আসর এফএ কাপ (FA Cup) সব সময়ই পরিচিত 'জায়ান্ট কিলিং' বা ছোট দলের হাতে বড় দলগুলোর ধরাশায়ী হওয়ার রোমাঞ্চকর গল্পের জন্য। সেই রূপকথায় এবার যোগ হলো নতুন এক সোনালী অধ্যায়। ফুটবলের কুলীন আঙিনা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (English Premier League) শক্তিশালী দল নটিংহ্যাম ফরেস্টকে স্তব্ধ করে দিয়ে এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে দ্বিতীয় স্তরের দল রেক্সহ্যাম।
টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ ও ওকোনকোয়ার বীরত্ব
নির্ধারিত সময়ের লড়াই শেষে ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে (Penalty Shootout)। স্নায়ুচাপের সেই চূড়ান্ত মুহূর্তে ৪-৩ ব্যবধানের জয় ছিনিয়ে নেয় রেক্সহ্যাম। নটিংহ্যাম ফরেস্টের হয়ে ওমারি হাচিনসনের নেওয়া পঞ্চম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শটটি অসামান্য দক্ষতায় রুখে দেন রেক্সহ্যামের গোলরক্ষক আর্থার ওকোনকোয়া। তার এই সেভ করার সাথে সাথেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম। ওকোনকোয়ার গ্লাভসেই মূলত নটিংহ্যামের বিদায় ঘণ্টা বেজে যায়।
২৬ বছরের খরা কাটিয়ে ঐতিহাসিক জয়
রেক্সহ্যামের জন্য এই জয়টি কেবল একটি রাউন্ড পার হওয়া নয়, বরং এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। দীর্ঘ ২৬ বছর পর এফএ কাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের কোনো দলকে হারানোর স্বাদ পেল তারা। মাঠের ফুটবলে রেক্সহ্যাম যে কতটা পেশাদারিত্বের পরিচয় দিচ্ছে, তা এই জয়ে আবারও প্রমাণিত হলো। দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব হয়েও প্রিমিয়ার লিগের বড় তারকায় ঠাসা নটিংহ্যামকে মাঠের কৌশলে বারবার পরাস্ত করেছে তারা।
হলিউডি মালিকানা ও স্বপ্নের রাজপথ
রেক্সহ্যামের এই অভাবনীয় উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে হলিউড সুপারস্টার রায়ান রেইনোল্ডস (Ryan Reynolds) এবং রব ম্যাকএলহেনি। এই দুই অভিনেতা ক্লাবের মালিকানা হাতে নেওয়ার পর থেকেই ক্লাবের চেহারাই বদলে গেছে। মাত্র তিন মৌসুমের ব্যবধানে নন-লিগ ফুটবল থেকে দ্বিতীয় স্তরে উঠে আসা রেক্সহ্যাম এখন কেবল ইংল্যান্ডে নয়, বিশ্ব ফুটবলেই এক অন্যতম ব্র্যান্ড। তাদের এই যাত্রা নিয়ে তৈরি ডকুমেন্টারি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নটিংহ্যামের বিপক্ষে এই জয় তাদের সেই 'হলিউড স্ক্রিপ্টে' যেন আরও একটি মহাকাব্যিক দৃশ্য যোগ করল।
কোচদের প্রতিক্রিয়া: তৃপ্তি বনাম ক্ষোভ
রেক্সহ্যাম কোচ ফিল পার্কিসন খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতায় উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, "ক্রিসমাসের ব্যস্ত সূচির পর দুই দলের ফুটবলাররাই ক্লান্ত ছিল। এমন স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে নটিংহ্যামের মতো দলের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা কৃতিত্বের। আমাদের ছেলেরা মাঠের প্রতিটি ইঞ্চি দখল করে খেলেছে।"
অন্যদিকে, প্রিমিয়ার লিগের দল হয়েও এভাবে হার মেনে নিতে পারছেন না নটিংহ্যাম কোচ। খেলোয়াড়দের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেন, "প্রথমার্ধের খেলা ছিল একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা যে প্রিমিয়ার লিগের একটি দল, সেটা দ্বিতীয়ার্ধ ছাড়া মাঠে বোঝাই যায়নি। নির্দিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড়কে অবশ্যই তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্ম-সমালোচনা করতে হবে।"
এই জয়ের ফলে চতুর্থ রাউন্ডে পৌঁছানোর পাশাপাশি রেক্সহ্যাম প্রমাণ করল, বড় বাজেটের দল না হয়েও কেবল পরিকল্পনা এবং সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, এফএ কাপের সামনের পথগুলোতে এই 'জায়ান্ট কিলাররা' আরও কতটা চমক উপহার দেয়।