• বিনোদন
  • বাবার মৃত্যু ও চরম হতাশা: ‘আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম’, অকপট ঐন্দ্রিলা সেন

বাবার মৃত্যু ও চরম হতাশা: ‘আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম’, অকপট ঐন্দ্রিলা সেন

অভিনেত্রী জানান, বাবার মৃত্যুর পর চরম হতাশায় তাঁরা মা-মেয়ে দুজনেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই দুঃসহ সময় থেকে কীভাবে বেরিয়ে এলেন, সে কথাই ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
বাবার মৃত্যু ও চরম হতাশা: ‘আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম’, অকপট ঐন্দ্রিলা সেন

সুখ-সাফল্যের ঝলমলে আলোয় ঘেরা টলিউড অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন তাঁর জীবনের এক ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায়ের কথা স্বীকার করেছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি জানান, ২০১৫ সালে বাবার আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর অসহনীয় যন্ত্রণা ও চরম হতাশায় তিনি এবং তাঁর মা একসময় আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। সেই কঠিন সময় থেকে বেরিয়ে আসার মর্মস্পর্শী কাহিনি তিনি ভাগ করে নিয়েছেন।

বাবার আকস্মিক মৃত্যু: যেদিনের কথা ভুলতে পারি না

অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন ভারতীয় গণমাধ্যমের একটি পডকাস্টে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবা শান্তনু সেনকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারান। সেই দিনের ঘটনা আজও তাঁর স্মৃতিতে জীবন্ত। ঐন্দ্রিলা বলেন, “আমি এখনো সেদিনের কথা ভুলতে পারি না। আমি কোলাঘাটের কাছে একটি শুটিংয়ে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে মা ছিলেন। মাত্র আধা ঘণ্টা আগেই বাবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল। হঠাৎ মায়ের কাছে একটি ফোন আসে, বাবার এক্সিডেন্ট হয়েছে, আমরা যেন তাড়াতাড়ি চলে যাই।”

বাবার উপর নির্ভরশীলতা ও দিশেহারা জীবন

কলকাতার বেহালা শীলপাড়া এলাকার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে ঐন্দ্রিলার বেড়ে ওঠা। তাঁর মা গৃহবধূ ছিলেন এবং বেশিরভাগ সময় মেয়ের পড়াশোনা ও অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। অন্যদিকে, সংসারের সব দায়িত্ব পালন করতেন তাঁর বাবা। বাবার উপর এতটাই নির্ভরশীল ছিলেন যে, ঐন্দ্রিলা ও তাঁর মা জীবনের সাধারণ কাজগুলোও জানতেন না। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, 'আমরা জানতাম না এটিএম থেকে কীভাবে টাকা তুলতে হয়, কীভাবে ইলেকট্রিক বিল দিতে হয়।' বাবার চলে যাওয়ার পর শ্মশানে বসেও তিনি বলেছিলেন, ‘বাবাকে বলো বাবা সব এনে দেবে।’ তিনি কল্পনাও করতে পারেননি বাবাকে এত তাড়াতাড়ি হারাবেন। ঐন্দ্রিলার কথায়, 'সেই সময়টা ভীষণ কঠিন ছিল।'

আত্মহননের দ্বারপ্রান্তে মা ও মেয়ে

বাবার অনুপস্থিতিতে বাজার করা বা সংসারের অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ— কিছুই জানতেন না ঐন্দ্রিলা বা তাঁর মা। চরম অসহায়তা থেকে একসময় তাঁরা আত্মহত্যার মতো মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিতেও প্রস্তুত হয়েছিলেন। অভিনেত্রী বলেন, “আমরা বাজার করতে জানতাম না, কোথায় গহনা থাকে সেটাও জানতাম না। এক কথায় আমি আর আমার মা সম্পূর্ণ বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। একটা সময় আমি আর মা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমরা আত্মহত্যা করব। অনেক কষ্টে সেই সময় থেকে বেরিয়ে এসেছি।”

ঐন্দ্রিলার অভিনয় জীবন

রবি কিনাগী পরিচালিত ‘বন্ধন’ সিনেমার মাধ্যমে ২০০৪ সালে পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ঐন্দ্রিলার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এরপর ‘সকাল সন্ধ্যা’ ও ‘রাজু আঙ্কেল’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন। টেলিভিশনে ‘খেলা’, ‘সাতপাকে বাঁধা’, এবং ‘ফাগুন বউ’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁকে দেখা যায়। বর্তমানে তিনি অঙ্কুশ হাজরার সঙ্গে ‘ম্যাজিক’, ‘লাভ ম্যারেজ’, ‘মির্জা’-এর মতো সিনেমায় কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তাঁর ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’ সিনেমার প্রচারণার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

Tags: tollywood bengali actress oindrila sen aindrila sen suicide attempt ankush hazra bangla entertainment news tragic story