বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দারুণ ছন্দে ঢুকে নোয়াখালী এক্সপ্রেস তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়ার পর এবার দলটি ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রানে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল। এই ম্যাচে মূল আকর্ষণ ছিল আফগান তারকা মোহাম্মদ নবি ও তার ছেলে হাসান ইসাখিলের অনন্য পারফরম্যান্স।
নোয়াখালীর রানের পাহাড় প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ১৮৪ রান। ওপেনিংয়ে নেমেই ঝড়ো শুরু এনে দেন হাসান ইসাখিল ও সৌম্য সরকার। ১০ ওভারেই দলীয় শতক পূর্ণ করে তারা। সৌম্য ৪৮ রানে আউট হলেও ইসাখিল একপ্রান্তে আগ্রাসন ধরে রেখে ৬০ বলে ৯২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ ও সময়োপযোগী শট।
নবি-ইসাখিল জুটিতে স্থিতি মাঝপথে কয়েকটি দ্রুত উইকেট পড়লেও ইসাখিলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে কার্যকর ৫৩ রানের জুটি গড়েন তার বাবা মোহাম্মদ নবি। নবি দ্রুত ১৭ রান করে ফিরলেও এই জুটিই নোয়াখালীর ইনিংসকে বড় সংগ্রহের দিকে স্থিতিশীলতা দেয়। ফলে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৪ রান।
ঢাকার ব্যাটিং বিপর্যয় বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ঢাকা ক্যাপিটালস। মাত্র ১৯ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারিয়ে তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। নোয়াখালীর বোলার ইহসানউল্লাহ চতুর্থ ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন।
এরপর অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি ৫৩ রানের একটি জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু শামীম ১৬ বলে ২৯ রান করে ফিরলে আবারও ছন্দ হারায় ঢাকা। মিঠুনও ৩৩ রানে বিদায় নেন। শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২০ বলে ৩৪ রানের চেষ্টা করলেও ঢাকার ইনিংস ১৪৩ রানেই থেমে যায়।
নোয়াখালীর সম্মিলিত বোলিং নৈপুণ্য নোয়াখালীর বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি ঢাকার ব্যাটাররা। ইহসানউল্লাহ, মেহেদী হাসান রানা, হাসান মাহমুদ এবং বাবা মোহাম্মদ নবি প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। অভিজ্ঞ নবি ব্যাট ও বল হাতে কার্যকর ভূমিকা রেখে দলের টানা দ্বিতীয় জয়ে বড় অবদান রাখেন। একটি উইকেট শিকার করেন আবু জায়েদ রাহি।