• জাতীয়
  • নিয়োগ যাচাইয়ে দুর্নীতির ছায়া: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার

নিয়োগ যাচাইয়ে দুর্নীতির ছায়া: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
নিয়োগ যাচাইয়ে দুর্নীতির ছায়া: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক নিয়োগের স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক নিয়োগ যাচাই (Scrutiny) প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার পবিত্রতা রক্ষায় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।

অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত শিক্ষকবৃন্দ

বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক হলেন—ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ড. কাজী হুমায়ুন কবির এবং তাঁর সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত একই ডিসিপ্লিনের শিক্ষক কামরুল হাসান। ড. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে এই অনিয়ম বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ও আইনি ভিত্তি

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিন্ডিকেটের ২৩৪তম সভায় এই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনার পর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগের স্ক্রুটিনি বা আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তারা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে গুরুতর অনিয়ম করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ

বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি এবং মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, “অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার (Temporary Suspension) করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্তাধীন রয়েছে।”

রেজিস্ট্রার আরও পরিষ্কার করেন যে, তদন্ত চলাকালীন তাঁরা বিধি অনুযায়ী জীবনধারণ ভাতা পাবেন। যদি তদন্তে তাঁরা নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে সসম্মানে পূর্বের সকল সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে। তবে অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হলে সিন্ডিকেট তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোরতর শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

একাডেমিক মহলে চাঞ্চল্য

একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে পদস্থ শিক্ষকদের বহিষ্কারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং নিয়োগে স্বচ্ছতা (Transparency) ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার মাধ্যমে একটি শক্ত বার্তা দিতে চাইছে যে, উচ্চশিক্ষার মানদণ্ড বজায় রাখতে মেধা এবং যোগ্যতার বাইরে অন্য কোনো কিছুর স্থান নেই।

Tags: education news power abuse university syndicate khulna university teacher suspension recruitment irregularity academic integrity scrutiny process disciplinary action ku news