যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান ও ইসরায়েল উভয় দেশের সেনাবাহিনীতে বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক’ অবস্থা (হাই অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, তারা যেকোনো মার্কিন হামলার মোকাবিলায় 'সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুত অবস্থায়’ রয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষার অবস্থা আইআরজিসি বিমান বাহিনীর কমান্ডার সারদার মুসাভি নিশ্চিত করেছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের চেয়ে অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি, ওই সময়ে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি সম্পূর্ণভাবে মেরামত করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের উচ্চ মূল্যায়ন আল জাজিরা ও টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন মার্কিন হামলা হবে কিনা সেই প্রশ্নে আটকে নেই; বরং তারা মনে করছে এটি শুধু 'কখন' হবে সেটাই মূল বিষয়। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান যেকোনো মুহূর্তে ইরানে হামলা শুরু করতে পারে। এই আশঙ্কায় ইসরায়েল তাদের বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ সব সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।
তেহরানের সম্ভাব্য পাল্টা জবাব ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার নির্দেশ দেবেন। এই ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ (Hezbollah), ইয়েমেন থেকে হুতি বিদ্রোহী (Houthi) গোষ্ঠী, এমনকি সিরিয়া ও ইরাক থেকেও সমন্বিত হামলা চালানো হতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা (Cyber attack) চালিয়ে ইরানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।