বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ নারাজির আবেদন জমা দেন।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ‘ভুক্তভোগী হাদী বারবার বলতেন, ন্যায় বিচারের কথা এবং তাকে যদি মেরে ফেলে সেই ন্যায় বিচারটাও চাইতেন। এজন্য আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে এ নারাজি দিয়েছি।
শুনানি নিয়ে আদালত নথি পর্যালোচনায় আদেশ দেবেন।’
নারাজির আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল, এজন্য তদন্ত কর্মকর্তা কেবলমাত্র তা জমা দিয়েছেন। এখানে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে হত্যাকারী শুটারদের কি সম্পর্ক তা উল্লেখ করা হয়নি। হাদি কোনো সাধারণ মানুষ ছিলেন না।
তাকে হত্যার জন্য অবশ্যই বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল। এজন্য তাকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছে। যেন কেউ আর হাদির মতো ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়। ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলেরর কথা বলা হয়েছে।
এটা হাস্যকর। একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের এ সাহস করার কথা না। অবশ্যই বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল। এজন্য এ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আমরা নারাজি দিয়েছি। এখানে শুধু ফয়সালকে দেখানো হয়েছে।
তার চেক জব্দ করেছে এটা হাস্যকর ব্যাপার। এটা কি ধরনের তদন্ত? প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর কিভাবে সেফ এক্সিট পায়? কিভাবে হত্যাকারীর সঙ্গে পরিকল্পনাকারী পালাতে সাহায্য করল, তাদের কথা বলা হয়নি অভিযোগপত্রে।
গত সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। মামলার আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে হাজির হন। অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুদিনের সময় চান তিনি। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরবর্তীতে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তার। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের ছয়জন পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করে।