ফুটবল বিশ্বকাপের আকর্ষণ যে অন্য যেকোনো আসরের চেয়ে আলাদা, তা আবারও প্রমাণিত হলো। ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উন্মাদনা। টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম এবং অর্থনৈতিক মন্দার আলোচনা থাকলেও সমর্থকদের আগ্রহে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফিফা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আসন্ন এই মেগা ইভেন্টের টিকিটের জন্য বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটিরও বেশি (৫০০ মিলিয়ন) আবেদন জমা পড়েছে।
বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অভূতপূর্ব সাড়া
ফিফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন আয়োজক দেশ ছাড়াও ফিফার অন্তর্ভুক্ত ২১১টি সদস্য দেশ ও অঞ্চলের সমর্থকেরা টিকিটের জন্য আবেদন করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) লটারির মাধ্যমে Ticket Application জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক আবেদন থেকে ভাগ্যবান বিজয়ীদের নাম আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
কোন দেশের সমর্থকদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?
আয়োজক দেশগুলোর বাইরেও ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তি দেশগুলোর সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাহাকার দেখা গেছে। ফিফার রেকর্ড অনুযায়ী, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা এবং কলম্বিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদনের হিড়িক পড়েছে। মজার বিষয় হলো, এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা গেছে ২৭ জুন মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল ম্যাচের টিকিটে।
চাহিদার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৮ জুন গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিতব্য মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচটি। এছাড়া ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে হতে যাওয়া জমকালো ‘ফাইনাল ম্যাচ’ দেখার জন্য ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি চোখ এখন ফিফার লটারির ফলের দিকে।
ইনফান্তিনোর বার্তা ও সীমাবদ্ধতা
বিশ্বকাপের এই অভাবনীয় জনপ্রিয়তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, “মাত্র এক মাসের একটু বেশি সময়ের মধ্যে অর্ধশত কোটি টিকিটের আবেদন কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমের এক শক্তিশালী বার্তা। এই অভূতপূর্ব সাড়ার জন্য আমি সারা বিশ্বের সমর্থকদের অভিনন্দন জানাই।” তবে চাহিদার তুলনায় স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা যে অত্যন্ত নগণ্য, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ইনফান্তিনো আক্ষেপ করে বলেন, “বিশ্বজুড়ে এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব আমরা বুঝি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্টেডিয়ামের ভেতরে আমরা সব সমর্থককে জায়গা দিতে পারছি না।”
আকাশছোঁয়া মূল্য ও বিতর্কের আবহ
এবারের বিশ্বকাপের টিকিটের চড়া মূল্য নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ফিফাকে। বিভিন্ন দেশের সমর্থক সংগঠনগুলো এবং ফ্যান ক্লাবগুলো টিকিটের দামকে ‘অতিরিক্ত’ ও ‘আকাশছোঁয়া’ বলে অভিহিত করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, সাধারণ মধ্যবিত্ত দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বিশ্বকাপের গ্যালারি। তবে এত সমালোচনা সত্ত্বেও আবেদনের এই ৫০ কোটির পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে যে, মাঠের লড়াই দেখার রোমাঞ্চের কাছে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রা শুরু ১১ জুন
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরটি হবে ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল এই আসরে অংশগ্রহণ করবে, যা ম্যাচের সংখ্যা ও গ্ল্যামারকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ফিফা তাদের পোর্টালে প্রকাশ করবে কারা পাচ্ছেন স্বপ্নের সেই টিকিট।