• আন্তর্জাতিক
  • ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর নিশ্চয়তা নেই, সীমিত সক্ষমতা; ইরানে সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত পিছু হটলেন ট্রাম্প

‘রেজিম চেঞ্জ’-এর নিশ্চয়তা নেই, সীমিত সক্ষমতা; ইরানে সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত পিছু হটলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘রেজিম চেঞ্জ’-এর নিশ্চয়তা নেই, সীমিত সক্ষমতা; ইরানে সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত পিছু হটলেন ট্রাম্প

পেন্টাগনের সতর্কবার্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি; তেহরানের বিরুদ্ধে বড় সংঘাতের পরিকল্পনা থেকে কি সরে আসছে ওয়াশিংটন?

ইরানের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি এবং বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারের রেশ কাটতে না কাটতেই সুর পাল্টাতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের কঠোর অবস্থান থেকে আপাতত কিছুটা পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমিত বিকল্প এবং রণক্ষেত্রে পূর্ণ সক্ষমতা না থাকায় মার্কিন সেনাবাহিনী এই মুহূর্তে ইরানে কোনো বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত নয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের (NBC News) সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

‘রেজিম চেঞ্জ’ এবং ট্রাম্পের কঠিন শর্ত

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ন্যাশনাল সিকিউরিটি টিম বা জাতীয় নিরাপত্তা দলকে একটি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানে সামরিক পদক্ষেপ কেবল তখনই নেওয়া হবে, যদি তারা সেখানে ‘Regime Change’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে। তবে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এমন কোনো গ্যারান্টি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। কর্মকর্তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া ইরানে আঘাত হানলে তা দীর্ঘমেয়াদী এবং অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার জন্য ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে প্রস্তুত নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি ও কৌশলগত সংকট

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম বা Military Assets নেই। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মাত্র ছয়টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে বর্তমানে কোনো ‘Aircraft Carrier Strike Group’ বা বিমানবাহী রণতরী বহর নেই।

এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মার্কিন সামরিক শক্তির বিকেন্দ্রীকরণ। গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলায় চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে মার্কিন বাহিনীর একটি বড় অংশ ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষা দেওয়া এবং একই সঙ্গে ইরানে বড় হামলা চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সমরবিদরা।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও রহস্যজনক সেনা প্রত্যাহার

গত মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে’। কিন্তু তার পরদিনই দেখা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। কাতারস্থ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সৈন্য সরিয়ে নেওয়া হয় এবং মার্কিন নাগরিকদের ওই এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরপরই ব্রিটেনও তেহরানে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয় এবং কাতার থেকে কিছু বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। বুধবার ইউরোপীয় সূত্রগুলো আশঙ্কা করেছিল যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলা হতে পারে; কিন্তু বাস্তবে ট্রাম্প প্রশাসন অনেকটা নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করে।

উত্তেজনা হ্রাসের নেপথ্যে কি এরফান সোলতানির মুক্তি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির ফাঁসি স্থগিত হওয়া ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার সরাসরি সতর্কবার্তার পর ইরান সোলতানির ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তেহরানের এই নমনীয় মনোভাবের কারণে ওয়াশিংটনও আপাতত সরাসরি সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, তেহরানে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরান ইতোমধ্যেই হুমকি দিয়েছে যে, আক্রান্ত হলে তারা এবং তাদের মিত্ররা কঠোর পাল্টা জবাব দেবে। এই ঝুঁকি এবং ‘Regime Change’-এর অনিশ্চয়তার কারণেই আপাতত ড্রয়ারে বন্দী হতে যাচ্ছে ইরানে হামলার মার্কিন পরিকল্পনা।

Tags: middle east donald trump us military regime change iran conflict pentagon news aircraft carrier war tension