বাউলকবি রশিদ উদ্দিনের পরিচয়
ভাটিবাংলার লোকসংগীতের এক বিস্মৃতপ্রায় সাধক হলেন রশিদ উদ্দিন। তাঁর জন্ম ১৮৮৯ সালের ২১ জানুয়ারি, নেত্রকোনার মদন উপজেলার বাহিরচাপড়া গ্রামে। তিনি শুধু একজন বাউলকবিই ছিলেন না, বরং ছিলেন শাহ আবদুল করিম, উকিল মুন্সি, জালাল খাঁর মতো কিংবদন্তি বাউল শিল্পীদেরও প্রত্যক্ষ গুরু। অথচ, সময়ের প্রবাহে এই গুণী সাধকের নাম ও অবদান জনসম্মুখের আড়ালে থেকে গেছে।
গান চুরি ও প্রাপ্য স্বীকৃতির অভাব
প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা শাকুর মজিদ তাঁর অনুসন্ধানে জানতে পারেন, রশিদ উদ্দিনের রচিত বহু গান বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিরা নিজেদের নামে প্রকাশ ও প্রচার করেছেন। কবির উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে পাওয়া হাতে লেখা মূল পাণ্ডুলিপি থেকেই এই অজানা সত্যটি সামনে আসে। ফলে, ‘এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া’, ‘শুয়া চান পাখি’, ‘দেখবে কী শুনবে কী ওরে ও মন ধুন্দা’, ‘মা গো মা ঝি গো ঝি’—এমন একাধিক কালজয়ী লোকসংগীতের প্রকৃত রচয়িতা হিসেবে রশিদ উদ্দিনের নাম আজও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা। তিনি তাঁর প্রাপ্য কৃতিত্ব পাননি, যা এক ঐতিহাসিক অবিচার।
প্রামাণ্যচিত্রের লক্ষ্য ও গুরুত্ব
নির্মাতা শাকুর মজিদ এই তথ্যচিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যার গান পৌঁছেছে, সেই মানুষটি আজ ইতিহাসে বিস্মৃত। এই প্রামাণ্যচিত্রের মূল লক্ষ্য হলো—রশিদ উদ্দিনকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি ফিরিয়ে দেওয়া, লোকসংগীতের ইতিহাসের একটি লুপ্ত অধ্যায়কে পুনরুদ্ধার করা এবং শিল্পীর মেধাস্বত্ব ও অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি সমাজে আলোচনার কেন্দ্রে আনা।
দর্শকদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল রশিদ উদ্দিনের পুনরাবিষ্কার নয়, এটি বাংলার লোকসংগীতের ইতিহাস নতুন করে লেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। এটি সেই প্রশ্নটিকেও সামনে আনে—যে অগণিত অখ্যাত স্রষ্টাদের গান যুগে যুগে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তাঁদের স্বীকৃতি ও অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে?