পদত্যাগকারীদের পরিচয় ও অভিযোগ পদত্যাগকারী ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির সংগঠক শিহাব হোসেন, সদস্য ও জুলাই আহত যোদ্ধা সালমান, সদস্য সাদমান সাকিব সাদাফ, আহনাফ হোসেন, ইফাত রাব্বী, সাদ্দাম হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, গোলাম রাব্বী, এমরান হোসেন ও অমিত হোসেন নিরব।
পদত্যাগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় অনুমোদনে গঠিত এই কমিটি শুরু থেকেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এর গঠন প্রক্রিয়া ও পরবর্তী কার্যক্রম সংগঠনের নৈতিক অবস্থান, আদর্শ এবং ছাত্রসমাজের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাই কমিটিতে থাকা তাদের কাছে 'বিব্রতকর ও অনভিপ্রেত' হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনের আদর্শ ও আত্মসম্মান বজায় রাখতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ জুলাই আহত যোদ্ধা ও কমিটির সদস্য সালমান অভিযোগ করেন, তাঁরা রাজপথে লাঠি-গুলি মোকাবিলা করলেও সেই সংগ্রামের ফল ভোগ করছেন সুবিধাবাদীরা। আহত যোদ্ধারা অবহেলিত, অথচ কমিটিতে এমন অনেকে মঞ্চ দখল করেছেন, যাঁরা কখনোই সামনে দাঁড়াননি।
সংগঠক শিহাব হোসেনের মতে, এই কমিটি আন্দোলনের আদর্শ ধারণ করে না। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পদবঞ্চিত নেতারা রয়েছেন। তারা নিজেদের চেয়ার রক্ষা নিয়েই ব্যস্ত এবং কমিটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এমন কমিটি থাকলে আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এর আগে সাংগঠনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে এই কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শাফিক মোয়ামমার রিয়ানও পদত্যাগ করেছিলেন।
কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বক্তব্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার সদস্য সচিব রাফি রেজওয়ান অভিযোগগুলো 'সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন' বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য কেউ কেউ এটি করছে। পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর যোগাযোগ করে শিহাব ছাড়া অন্যদের স্বাক্ষর একই হাতের লেখা মনে হয়েছে এবং অনেকে পদত্যাগের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সালমান নামের ছেলেটি 'জুলাইযোদ্ধা' নয়।
কমিটির আহ্বায়ক আরমান হোসেনও স্বাক্ষর জালিয়াতির সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, পদত্যাগপত্রে দেওয়া কারণ 'পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য'। তিনি জানান, কমিটিতে কোনো এনসিপি (ন্যাশনাল কনভেনশন পার্টি) নেতা নেই, যদিও সদস্য সচিব রাফি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেই যুক্ত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
কমিটির অনুমোদন প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যৌথ স্বাক্ষরিত নোটিশে গত ২৯ ডিসেম্বর ২০৬ সদস্যবিশিষ্ট নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ৬ মাসের জন্য অনুমোদিত এই কমিটিতে আরমান হোসেনকে আহ্বায়ক ও রাফি রেজওয়ানকে সদস্য সচিব করা হয়েছিল। সদস্য সচিব রাফি রেজওয়ান এনসিপির সাবেক নেতা ছিলেন বলে জানা যায়। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ অবশ্য বলেছেন, রাফি রেজওয়ান লিখিতভাবে পদত্যাগ করেননি এবং বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন।