• জাতীয়
  • সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান

সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান

সাংবাদিকদের 'দালাল' নামে অভিযুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে সমালোচনা করে প্রবীণ সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, স্বাধীনতা ধরে রাখতে হলে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা জরুরি: শফিক রেহমান

প্রবীণ সম্পাদক শফিক রেহমান সম্প্রতি 'গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬'-এ সাংবাদিকতার পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, শুধুমাত্র সাংবাদিকতার ওপর নির্ভরশীলতা একজন পেশাজীবীকে 'দালাল' নামে অভিযুক্ত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, সাংবাদিকতা কেবল একটি চাকরি নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব।

সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব ও স্বনির্ভরতার গুরুত্ব শফিক রেহমান তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার করে দেন যে সাংবাদিকতাকে নিছক চাকরি হিসেবে না দেখে এটিকে একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এই দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকতে হলে সাংবাদিকদের অবশ্যই আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিকল্প দক্ষতা অর্জনের আহ্বান তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের বিকল্প পেশাগত দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর পরামর্শ, কেবল সাংবাদিকতার উপর নির্ভর না করে শিক্ষকতা, গবেষণা, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা উচিত। এতে আপসের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি কমবে।

রাজনৈতিক আনুগত্যের সমালোচনা সাংবাদিকদের 'দালাল' আখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যারা ছিল কয়দিন আগে আওয়ামী লীগের পক্ষে, তারা হয়ে গেল সব এখন বিএনপির পক্ষে। এটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার নাকি? এটা ম্যাজিক। এই ম্যাজিকে আপনি পড়বেন না। সুতরাং এতে আপনার সম্মান বাড়ছে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সাংবাদিকদের অতি-আনুগত্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

ব্যক্তিপূজা পরিহার ও প্রতিষ্ঠানের কাজে জোর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শফিক রেহমান উল্লেখ করেন যে, তিনি সব সময় নামের আগে বিশেষণ ব্যবহার অপছন্দ করেন। তাঁর মতে, ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানের কাজকেই অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মতপ্রকাশের দৃঢ়তা নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, কারাবাসের ফলে তিনি বাম চোখ ও বাম কান হারিয়েছেন এবং ডান চোখেও ৫০ শতাংশ কম দেখেন। বর্তমানে কানের মেশিন ব্যবহার করে কথা বলছেন। শারীরিক এমন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি তাঁর মতপ্রকাশের অধিকার থেকে সরে আসেননি।

অর্থনৈতিক উদ্বেগ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল ব্যাংকিং ও মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের প্রভাব এখন সুস্পষ্ট। মানুষের সোনার প্রতি ঝুঁকে পড়াকে তিনি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার লক্ষণ হিসেবে দেখেন এবং একটি শক্তিশালী, মানসম্মত ব্যাংকিং কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পেশাগত মর্যাদা ফিরিয়ে আনার উপায় প্রবীণ এই সম্পাদক মনে করেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এখনো পূর্ণ মর্যাদা লাভ করেনি এবং এই মর্যাদা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরই। তিনি প্রস্তাব করেন, পত্রিকার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড কমিটি গঠন করা উচিত, যা সম্পাদনা ও পেশাগত নীতিমালার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে।

সম্মেলনে বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের (যেমন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন) নেতারা এবং ঢাকার বাইরের সম্পাদক-প্রকাশক ও কলাম লেখকেরা উপস্থিত ছিলেন।

Tags: banglades dhaka গণমাধ্যম সাংবাদিকতা শফিক রেহমান গণমাধ্যম সম্মিলন