দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরুর আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়ের রাজনীতি। রাঙ্গামাটি ২৯৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে সরাসরি ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই প্রার্থী।
রোববার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাঙ্গামাটি শহরের একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পহেল চাকমা এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, একটি বিশেষ পক্ষ তাঁকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই চক্রান্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে রোমহর্ষক বর্ণনা
পহেল চাকমা জানান, শনিবার রাতে রাঙ্গামাটি শহরের স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় তাঁর নিজ কার্যালয়ে অপরিচিত দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে আসেন। তাঁরা তাঁকে কৌশলে পাশের একটি রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পহেল চাকমা বলেন, “আমাকে বলা হয়েছে, আমি যদি নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়াই, তবে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এই ঘটনার পর থেকে আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম সংশয়ে আছি।”
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ
হুমকিদাতাদের পরিচয় সম্পর্কে পহেল চাকমা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের সমর্থক বলে দাবি করেছেন। তাঁরা চান না পহেল চাকমা নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকুন। তবে প্রার্থী পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “তাদের যদি জনসমর্থন থাকে, তবে গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রচার চালালেই হয়। আমাকে হুমকি দিয়ে মাঠ থেকে সরানো যাবে না।”
চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নির্বাচনী লড়াই
নির্বাচনী সফরে বারবার বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি বলেন, “আমার জয় নিশ্চিত জেনেই আমাকে বারবার টার্গেট করা হচ্ছে। প্রথমে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল, পরে আইনি লড়াই ও আপিলের মাধ্যমে আমি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি। এখন শুরু হয়েছে সরাসরি হুমকি। যেহেতু এবার আঞ্চলিক দলগুলো থেকে কেউ অংশ নিচ্ছে না, তাই আমি শতভাগ নিশ্চিত যে সাধারণ মানুষ আমাকেই জয়ী করবে।”
প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরাপত্তা দাবি
ইতিমধ্যেই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রাঙ্গামাটির কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করেছেন পহেল চাকমা। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পহেল চাকমা বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো গানম্যান (Gunman) চাইছি না। তবে আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাব, আমি কোথায় যাচ্ছি বা কী করছি—সেটি যেন গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। পর্যাপ্ত Administrative Surveillance থাকলে কোনো সন্ত্রাসী বা দুর্বৃত্ত আমার ক্ষতি করার সাহস পাবে না।”
তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ
জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পাহাড়ের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।