বলিউড তথা গ্ল্যামার জগতের এক সময়ের সেনসেশন, ‘কাটা লাগা’ গার্ল খ্যাত শেফালি জারিওয়ালার আকস্মিক প্রয়াণ নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিনোদন দুনিয়াকে। ২০২৫ সালের ২৭ জুন মাত্র ৪২ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া ভক্তদের কাছে ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘হৃদরোগ’ বা Cardiac Arrest-এর কথা উল্লেখ করা হলেও, দীর্ঘ সময় পর সেই মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক দাবি তুললেন তাঁর স্বামী তথা অভিনেতা পরাগ ত্যাগী। তাঁর দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং ‘কালো জাদু’ (Black Magic) বা কোনো অতিপ্রাকৃত অশুভ শক্তির প্রভাবে প্রাণ হারিয়েছেন শেফালি।
পডকাস্টে পরাগের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
সম্প্রতি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরাগ ত্যাগীর এই বিতর্কিত অথচ চাঞ্চল্যকর মন্তব্য। একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে পরাগ তাঁর অন্তরের গভীর সন্দেহ ও বিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বিজ্ঞান যাই বলুক না কেন, আধ্যাত্মিক এবং অতিপ্রাকৃত জগতের অন্ধকার দিকটি তিনি অস্বীকার করতে পারছেন না। পরাগের ভাষায়, “যেখানে ঈশ্বর আছেন, সেখানে শয়তানের অস্তিত্ব থাকাও অস্বাভাবিক নয়। আমি বিশ্বাস করি শেফালির ওপর কোনো অশুভ শক্তির প্রয়োগ করা হয়েছিল।”
সুরক্ষা কবজ ও পঞ্চমুখী হনুমান মূর্তির রহস্য
পরাগ তাঁর সন্দেহের সপক্ষে বাড়িতে ঘটে যাওয়া কিছু অস্বাভাবিক ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, তাঁদের বাড়িতে দীর্ঘকাল ধরে একটি ‘পঞ্চমুখী হনুমান’ মূর্তি ছিল, যা তাঁরা বাড়ির সুরক্ষা কবজ বা Protective Shield হিসেবে গণ্য করতেন। কিন্তু শেফালির মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরাগের দাবি, শেফালি নিজেই তাঁকে বাধ্য করেছিলেন সেই মূর্তিটি সরিয়ে ফেলতে।
পরাগ আক্ষেপের সুরে বলেন, “বাড়িতে একবার নয়, দু-দুবার আমি অস্বাভাবিকতা অনুভব করেছিলাম। প্রথমবার আমরা বেঁচে গেলেও দ্বিতীয়বার শেফালিকে আমি রক্ষা করতে পারিনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যারা শেফালির ওপর কালো জাদু করেছিল, তারাই তাঁকে দিয়ে হনুমানজির মূর্তিটি সরিয়ে ফেলতে প্ররোচিত করেছিল। এতে তাঁর চারপাশের সুরক্ষাবলয় নষ্ট হয়ে যায়।”
দেরি হয়ে যাওয়া উপলব্ধি ও ক্ষমা না করার অঙ্গীকার
অভিনেত্রীর স্বামী আরও একটি কাকতালীয় ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। শেফালির মৃত্যুর ঠিক এক মাস পর তিনি পুনরায় একটি ‘পঞ্চমুখী হনুমান’ মূর্তি উপহার পান। সেটি পুনরায় বাড়িতে স্থাপন করার পর পরাগ অনুভব করেন, এই আধ্যাত্মিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে তিনি অনেক দেরি করে ফেলেছেন। অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পরাগ বলেন, “আমি শতভাগ নিশ্চিত যে শেফালির সঙ্গে কেউ জঘন্য কিছু করেছে। যার হাত এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এবং যে এই কালো জাদু করেছে, তাকে আমি কোনো দিন ক্ষমা করতে পারব না।”
বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস: এক অমীমাংসিত বিতর্ক
শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যুর পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে দাবি করা হয়েছিল, সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত ‘বার্ধক্যরোধী ওষুধ’ বা Anti-aging medicine গ্রহণের বিরূপ প্রভাবে তাঁর শরীরে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টেও বিষয়টিকে হৃদরোগ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। তবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা Medical Report-এ সন্তুষ্ট নন পরাগ ত্যাগী। গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের আড়ালে কোনো অন্ধকার ষড়যন্ত্রের শিকার তাঁর স্ত্রী হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরাগের এই বিস্ফোরক দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভক্তদের একাংশ যখন শোকাতুর মনে পরাগের দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন, অন্য অংশ আবার এই আধুনিক যুগে ‘কালো জাদু’র মতো বিষয়কে বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে খারিজ করে দিচ্ছেন। তবে যুক্তি-তর্কের ঊর্ধ্বে শেফালি জারিওয়ালার সেই চিরচেনা হাসি আজ কেবলই স্মৃতি।