নমুনা সংগ্রহের আগে যা করা উচিত নয়
সঠিক রিপোর্ট পাওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহের আগে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক:
- অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম পরিহার: নমুনা সংগ্রহের আগে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করবেন না। এর ফলে প্রস্রাবে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ভুল রিপোর্টের কারণ হতে পারে।
- নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য ও পানীয়: ক্যাফেইন, নিকোটিন, বিটরুট, লাল ড্রাগন ফ্রুট এবং অতিরিক্ত পরিমাণে গরু, খাসি, মুরগি বা মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এই উপাদানগুলো পরীক্ষার ফলে পরিবর্তন আনতে পারে।
- উচ্চমাত্রার ভিটামিন: উচ্চমাত্রার ভিটামিন সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- ওষুধের তথ্য: যাঁরা অ্যাসপিরিন বা অন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছেন, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসককে এ বিষয়ে অবহিত করতে হবে।
- শারীরিক অবস্থার সতর্কতা: মাসিকের সময় বা শারীরিক ঘনিষ্ঠতার ঠিক পর পরই নমুনা সংগ্রহ করা যাবে না। এই সময় নমুনা দিলে রিপোর্টে রক্তের উপস্থিতি (রক্তকণিকা) দেখা যেতে পারে, যা ভুল ইঙ্গিত দিতে পারে।
নমুনা সংগ্রহের সময় জরুরি পদক্ষেপ
সঠিক উপায়ে প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা নির্ভুল রিপোর্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: প্রস্রাব পরীক্ষার আগে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি মূত্রনালির আশপাশের জায়গা জল দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
- প্রথম সকালের প্রস্রাব (রুটিন টেস্ট): প্রস্রাবের রুটিন টেস্ট (Routine Urine Test) এবং প্রস্রাব কালচারের (Urine Culture) নমুনা সংগ্রহের জন্য সাধারণত সকালের প্রথম প্রস্রাব সংগ্রহ করা সবচেয়ে ভালো।
- মিড-স্ট্রিম কালেকশন পদ্ধতি: প্রস্রাব শুরু করার পর খানিকটা থেমে যান। এরপর আবার যখন প্রস্রাব শুরু হবে, তখন মাঝখানের ফ্লো বা 'মিড-স্ট্রিম' থেকে প্রস্রাবের নমুনা টিউবে সংগ্রহ করতে হবে। এটি সংক্রমণ বা অন্যান্য ত্রুটি এড়াতে সাহায্য করে।
- ল্যাবে পাঠানো: নমুনা সংগ্রহের পর টিউবের ঢাকনা ভালো করে লাগিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে ল্যাবরেটরিতে জমা দিতে হবে।
২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব পরীক্ষার বিশেষ নিয়ম
২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব পরীক্ষার (24-Hour Urine Test) জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়:
- প্রথম প্রস্রাব বাদ দিন: সকালে প্রথমবার যে প্রস্রাব হয়, তা সংগ্রহ করা যাবে না, সেটি ফেলে দিতে হবে।
- সংগ্রহ শুরু: এরপর থেকে সংগ্রহ শুরু করতে হবে। শুরুর তারিখ ও সময় লিখে রাখুন।
- সংগ্রহের সময়সীমা: পরদিন ঠিক ওই সময় পর্যন্ত সব প্রস্রাব সংগ্রহ করতে হবে।
- জমা দেওয়া: সংগ্রহের পর আবার তারিখ ও সময় লিখে সেদিনই ল্যাবরেটরিতে স্যাম্পলটি জমা দিন।
কালচার টেস্টের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
প্রস্রাবের সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য কালচার টেস্ট (Culture Test) দেওয়া হয়। এই পরীক্ষার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, নমুনা দেওয়ার আগে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে দিলে কালচারে জীবাণু দেখা যাবে না। তাই নমুনা দেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন শুরু করা উচিত।