ব্যক্তিগত বার্তার প্রকাশ ও তার বিষয়বস্তু
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি, ২০২৬) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই স্ক্রিনশটটি প্রকাশ করেন। পোস্টটির শিরোনাম ছিল—‘ফ্রান্সের হয়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর বার্তা’। প্রকাশিত স্ক্রিনশটে দেখা যায়, বার্তাটির শুরুতেই লেখা—‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।’
বার্তার মূল অংশে মাখোঁ লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু, সিরিয়ার বিষয়ে আমরা পুরোপুরি একমত। ইরান নিয়ে আমরা বড় কাজ করতে পারি। আমি বুঝতে পারছি না, আপনি গ্রিনল্যান্ডে কী করছেন। চলুন বড় কিছু করার চেষ্টা করি।’
মাখোঁর প্রস্তাব ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
মাখোঁ তার বার্তায় ‘বড় কিছুর’ একটি তালিকাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার প্যারিসে জি–৭ সদস্যদেশগুলোকে নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করতে পারেন। সেখানে ইউক্রেন, ডেনমার্ক ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা ছিল। এরপরেই প্যারিসে ট্রাম্পকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান মাখোঁ।
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের একের পর এক হুমকির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বেশিরভাগ নেতাই সোচ্চার। এদের মধ্যে মাখোঁ সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক হাতিয়ার ব্যবহারের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এছাড়াও, ডেনমার্কের সমর্থনে গ্রিনল্যান্ডে ফরাসি সেনা পাঠানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাখোঁ।
ফরাসি ওয়াইনের উপর শুল্ক আরোপের হুমকি
সাংবাদিকেরা 'বোর্ড অব পিস' (শান্তি পর্ষদ) নিয়ে ফ্রান্সের অবস্থান সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তিনি কি এটি বলেছেন? ভালো কথা, তাঁকে কেউ চান না। কারণ, খুব শিগগির তাঁকে পদ ছাড়তে হবে। তাঁর ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর আমি ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব।'
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।