মোংলা পোর্ট সিটির মাদকের নেটওয়ার্ক ছিন্ন করতে বড়সড় সাফল্য পেল যৌথ বাহিনী (Joint Forces)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গভীর রাতে মোংলা পৌর শহরের মাদ্রাসা রোডে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও ইয়াবাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী এই বিশেষ অভিযানে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
মোংলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক কারবার পরিচালনা করছে— এমন একটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ‘Joint Operation’ শুরু হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকার একটি বাড়িতে হানা দেয়। অভিযান চলাকালীন পালানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি সাফিয়া বেগম (৫৬) নামক এক নারীর। তিনি ওই এলাকার মো. আব্দুর রহিমের স্ত্রী।
উদ্ধারকৃত মাদক ও সরঞ্জাম
গ্রেফতারকৃত নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১৮ বোতল দামী বিদেশি মদ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ৪২ হাজার টাকা এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (Law Enforcement Agency) সদস্যরা। পুলিশের দাবি, জব্দকৃত অর্থ মাদক কেনাবেচার অবৈধ আয় থেকে সংগৃহীত।
আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য
মোংলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন গণমাধ্যমকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মোংলায় নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত সাফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে মোংলা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে আসামিকে বাগেরহাট আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হবে। মাদকের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এই ধরনের চিরুনি অভিযান (Combing Operation) ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
মোংলার মতো কৌশলগত ও ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকের এমন বিস্তার নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। যৌথ বাহিনীর এই সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। মাদকের সরবরাহ বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ (Legal Action) বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।