• আন্তর্জাতিক
  • গ্রিনল্যান্ড দখলের নতুন কৌশল জানালেন ট্রাম্প: সামরিক শক্তি নয়, মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ড দখলের নতুন কৌশল জানালেন ট্রাম্প: সামরিক শক্তি নয়, মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ নয়, আলোচনা বা অন্য কোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিতে চান তিনি। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় ইউরোপের ৮টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
গ্রিনল্যান্ড দখলের নতুন কৌশল জানালেন ট্রাম্প: সামরিক শক্তি নয়, মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের নতুন পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চল দখলে নিতে তিনি কোনো ধরনের সামরিক শক্তি বা বল প্রয়োগের পথে যাবেন না, তবে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকা উচিত বলে মনে করেন। তার এই বক্তব্য এবং ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য দাভোস (Davos)-এ দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে বলেন, “আমি যদি অতিরিক্ত শক্তি ও বল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত না নিই, তাহলে সম্ভবত আমরা কিছুই পাব না। সত্যি বলতে, যদি বল প্রয়োগের চেষ্টা করি, তাহলে কেউ আমাদের ঠেকাতে পারবে না। কিন্তু আমি তা করব না।” তিনি আরও বলেন, “এটি সম্ভবত আমার দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি, কারণ অনেকেই ভেবেছিল আমি বল প্রয়োগ করব।” বুধবার (২১ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউরোপের ৮টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপের ৮টি দেশের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তার এই ঘোষণায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপের ফলে দুপক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেতে পারে।

ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এবং ইউরোপের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থানের ফলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ট্রাম্প ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন, তবে সংকটের মুহূর্তে এই সামরিক জোট যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্য এবং ইউরোপের বিরুদ্ধে তার বাণিজ্যিক হুমকি পশ্চিমা বিশ্বে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

Tags: donald trump trade war european union nato greenland davos world economic forum us-europe relations