• আন্তর্জাতিক
  • ইসরায়েলের কারাগারে নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা ভুক্তভোগীর

ইসরায়েলের কারাগারে নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা ভুক্তভোগীর

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইসরায়েলের কারাগারে নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা ভুক্তভোগীর

ইসরায়েলের কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফিলিস্তিনি সাবেক বন্দি সামি আল-সাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর তাকে মারধর ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

আল-সাই বলেন, “আমার সঙ্গে এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানানো আমার নৈতিক দায়িত্ব।” তার এই বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এসব জানিয়েছে।

আল-সাইয়ের দাবি অনুযায়ী, নির্যাতনের সময় কারারক্ষীরা তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি অপমানজনক আচরণ করে এবং ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তিনি চিকিৎসাসেবা পাননি। তিনি বলেন, হামলার পর তিন সপ্তাহের বেশি সময় রক্তক্ষরণ হলেও কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বন্দিদের সঙ্গে নির্যাতন বা যৌন সহিংসতার মতো আচরণ করা হয় না এবং কারাগারে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হয়। তারা আরও দাবি করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগগুলো অনেক ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত বা ভিত্তিহীন।

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা বেড়েছে এবং বন্দিদের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে। এই সময়ে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে যে কারাগারগুলোতে বন্দিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, মারধর এবং মানসিক চাপ দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। তবে ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ মানতে রাজি নয় এবং বরাবরের মতোই তা অস্বীকার করে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আল-সাইয়ের ভিডিও নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে পারে এবং কারাগার পরিস্থিতি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও জোরালো হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মানবিক দিক নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

Tags: কারাগার ইসরায়েল নির্মম নির্যাতন ভুক্তভোগী