দীর্ঘ ২১ বছর পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১০ মিনিটে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফর তার জন্য একাধারে পারিবারিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।
শ্বশুরবাড়িতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও আনন্দঘন পরিবেশ তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামের ‘রাহাত মঞ্জিল’। দীর্ঘ বিরতির পর 'সিলেটি জামাই'-এর আগমন উপলক্ষে পুরো এলাকায় সাজ সাজ রব। ‘দুলাভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ লেখা ফেস্টুন ও নানা ব্যানারে সাজানো হয়েছে গোটা এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকায় এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জিয়া ফাউন্ডেশন ইউরোপের সমন্বয়ক ও সিলাম এলাকার বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম স্বপন জানিয়েছেন, বহু বছর পর তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও শিরনি বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে ৪০ হাঁড়ি আখনি রান্না করা হচ্ছে, যা দোয়ার পর প্রায় ১২ হাজার মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
মাজার জিয়ারত ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে দোয়া মাহফিল বিমানবন্দর থেকে নেমে তারেক রহমান সরাসরি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরানের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। মাজার জিয়ারতের পর তিনি পৈতৃক বাড়ি ‘রাহাত মঞ্জিল’-এ যাবেন। সেখানে তিনি ১২ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের সঙ্গে দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাতে তিনি বিমানবন্দরের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে রাত্রিযাপন করবেন।
নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা সিলেট থেকেই বিএনপির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর সকাল ১০টার দিকে তিনি নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। এই জনসভা থেকে তিনি সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। সমাবেশে ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন বিএনপি নেতারা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার তারেক রহমানের আগমন ও জনসভা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আলিয়া মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। তারেক রহমানের এই সফর সিলেটবাসীর কাছে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পারিবারিক সফরের কারণে এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তে রূপ নিয়েছে।