• জীবনযাপন
  • চোখের নিচের কালো দাগ: কখন এটি জটিল রোগের পূর্বাভাস, যা বলছে গবেষণা

চোখের নিচের কালো দাগ: কখন এটি জটিল রোগের পূর্বাভাস, যা বলছে গবেষণা

গবেষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও চোখের নিচে কালো দাগ স্থায়ী হলে তা কিডনি বা লিভারের জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে। জেনে নিন কখন এটি শুধু ক্লান্তি নয়, বরং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির বার্তা দেয়।

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
চোখের নিচের কালো দাগ: কখন এটি জটিল রোগের পূর্বাভাস, যা বলছে গবেষণা

চোখের নিচে কালো দাগ বা 'ডার্ক সার্কেল' এখন একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি সবসময় শুধু ক্লান্তি বা অনিদ্রার ফল নয়। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি এই দাগ স্থায়ীভাবে থেকে যায়, তবে তা কিডনি ও লিভারের কর্মহীনতা, হরমোনের পরিবর্তন বা হজমের সমস্যার মতো শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা জটিল সমস্যার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা এই উপসর্গটির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যঝুঁকির গভীর যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

চোখের নিচের কালো দাগ: কখন এটি জটিল রোগের পূর্বাভাস, যা বলছে গবেষণা

চোখের নিচের কালো দাগ বা 'ডার্ক সার্কেল'কে সাধারণত রাত জেগে কাজ করা, ক্লান্তি বা ঘুমের অভাবের সঙ্গে যুক্ত করে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তবে গবেষণা ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এই উপসর্গটি শরীরের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং অন্যান্য গবেষণায় এই কালো দাগের সঙ্গে কিডনি, লিভার ও হরমোনজনিত সমস্যার মতো জটিল অভ্যন্তরীণ রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

কিডনির দুর্বলতা বা ফেইলিউর

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের এক গবেষণা অনুযায়ী, চোখের নিচের কালো দাগ বা 'পেরিওরবিটাল হাইপারপিগমেন্টেশন' কিডনির সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। কিডনি যখন সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তখন শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমতে শুরু করে। এর ফলে চোখের চারপাশে তরল জমা ও রঙের পরিবর্তন ঘটে, যা কালো দাগকে আরও প্রকট করে তোলে। এছাড়া, কিডনির দুর্বল কার্যকারিতার কারণে ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। তবে, সব কালো দাগই যে কিডনি রোগের কারণে হয় তা নয়, মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাবও অন্যতম দায়ী।

লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগ

দীর্ঘস্থায়ী লিভারের সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে চোখের নিচের কালো দাগ। দুর্বল লিভার রক্ত থেকে বিষাক্ত উপাদান ফিল্টার করতে ব্যর্থ হলে ত্বক ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ দেখায়। গবেষণায় দেখা গেছে, লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষের চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায়। লিভার ফুলে গেলে বা চর্বি জমলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ও টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়, যার ফলে চোখ ক্লান্ত ও কালচে দেখায়। পুষ্টিহীনতা বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও মাসিক চক্রের অনিয়ম

নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের অসামঞ্জস্য বা অনিয়মিত মাসিকও চোখের নিচে কালো দাগের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের অবস্থায় রক্ত প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মুখের ত্বকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় না। এর ফলে ত্বক নিস্তেজ হয় এবং চোখ ক্লান্ত বা বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখাতে পারে। মাসিকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

এই সমস্যা সমাধানের উপায় কী?

চোখের নিচের কালো দাগের চিকিৎসা মূলত এর মূল কারণের ওপর নির্ভরশীল। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন একটি বড় ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাবার গ্রহণ ত্বকের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য ও চর্বিহীন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য ত্বক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা ভালো রাখে। চিকিৎসকদের মতে, এই কালো দাগকে শুধু সৌন্দর্যগত সমস্যা হিসেবে না দেখে, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, এটি কখনও কখনও ভয়াবহ রোগের আগাম সতর্কবার্তাও হতে পারে।

Tags: bangla news liver disease eye health hormonal imbalance kidney disease dark circles health query