ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই অভিযানের পেছনে ছিল দামেস্ক, প্যারিস ও ইরাকে অনুষ্ঠিত কতগুলো অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র কুর্দিদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এই অভিযানে সরাসরি কোনও বাধা দেয়নি জো বাইডেনের উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন সিরিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতিতে শারার বড় বিজয় হয়েছে, তেমনি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে কুর্দিদের প্রধান মিত্র ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৪ সালের শেষে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় বসার পর শারা পুরো সিরিয়াকে একক শাসনের অধীনে আনার ঘোষণা দেন।
রয়টার্সের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি দামেস্কে কুর্দিদের সঙ্গে সিরীয় কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরদিন প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে এক নিরাপত্তা বৈঠকে অংশ নেয় সিরীয় প্রতিনিধি দল। সেখানে সিরীয় কর্মকর্তারা কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সীমিত সামরিক অভিযানের প্রস্তাব দিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাতে কোনও আপত্তি জানায়নি। এমনকি তুরস্কের পক্ষ থেকেও দামেস্ককে বার্তা দেওয়া হয় যে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করলে ওয়াশিংটন এই অভিযানে বাধা দেবে না।
অভিযান শুরু হওয়ার পর ১৭ জানুয়ারি ইরাকের কুর্দিস্তানে এসডিএফ কমান্ডার মাজলুম আবদির সঙ্গে দেখা করেন মার্কিন দূত টম ব্যারাক। সূত্রমতে, ব্যারাক সরাসরি জানিয়ে দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এখন শারার সরকারের সঙ্গে, এসডিএফের সঙ্গে নয়।
মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুর্দি রাজনৈতিক কর্মকর্তা হাদিইয়া ইউসুফ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আপনারা কি এতটাই নীতিহীন? মিত্রদের সঙ্গে এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করতে আপনাদের একটুও বাধলো না?
অভিযানের শেষ পর্যায়ে শারা কিছুটা ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন। ১৯ জানুয়ারির মধ্যে তার বাহিনী কুর্দিদের শেষ দুর্গগুলোও ঘিরে ফেলে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কায় মার্কিন প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয় এবং সিরিয়ার ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞার কথা চিন্তা করে।
কিন্তু কৌশলী শারা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তিনি শর্ত দেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে এসডিএফ যদি দামেস্কের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা দেয়, তবে তার সেনারা আর এগোবে না। শারার এই পদক্ষেপে ওয়াশিংটন সন্তুষ্ট হয়। এর পরপরই মার্কিন দূত টম ব্যারাক এক বিবৃতিতে বলেন, আইএস দমনে এসডিএফের প্রয়োজনীয়তা এখন অনেকটাই শেষ এবং কুর্দিদের জন্য শারার সরকারের অধীনে থাকাই এখন বড় সুযোগ।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা শারার এই কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, মনে হচ্ছে শারা একজন ধুরন্ধর কৌশলবিদ।