• আন্তর্জাতিক
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলো যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলো যুক্তরাষ্ট্র

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সতর্কতা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি তাদের অন্যতম বড় অর্থদাতাকে হারালো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) জানিয়েছে, মহামারি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচওর কথিত ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, সংস্কারে অক্ষমতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বছর আগে একটি নির্বাহী আদেশে এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে সই করেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংস্থাটি চীনের প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাত দেখিয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে তিনি ডব্লিউএইচওর সমালোচনা করেছিলেন।

যদিও ডব্লিউএইচও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আডানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়া শুধু ডব্লিউএইচওর জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বের জন্যই ক্ষতি। ডব্লিউএইচও তাদের বৈশ্বিক কার্যক্রমের উদাহরণ হিসেবে পোলিও, এইচআইভি, মাতৃমৃত্যু কমানো এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তির কথা তুলে ধরেছে।

ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওর অন্যতম বৃহৎ অর্থদাতা হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের চাঁদা পরিশোধ করেনি। ফলে সংস্থাটিতে ব্যাপক চাকরি ছাঁটাই হয়েছে। ডব্লিউএইচও’র আইনজীবীরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার (১৯৩ মিলিয়ন পাউন্ড)। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা এই অর্থ পরিশোধের কোনও কারণ দেখছে না।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ডব্লিউএইচওতে দেওয়া সব সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছে, জেনেভায় সদর দফতর ও বিশ্বজুড়ে সংস্থার অফিসগুলো থেকে মার্কিন কর্মী ও ঠিকাদারদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া ডব্লিউএইচওর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ডব্লিউএইচওতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জন্য যা করেছে, তা সবই কলঙ্কিত ও ধ্বংস করেছে। অভিযোগ করে তারা আরও বলেন, সংস্থাটি তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এমনকি জেনেভার সদর দফতরে থাকা মার্কিন পতাকা ফিরিয়ে দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও’র সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কেবল প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং মার্কিন জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, বিদায়ের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে এক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আডানম গেব্রেয়েসুস বলেন, আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে আসবে। ডব্লিউএইচও থেকে নাম প্রত্যাহার করা যুক্তরাষ্ট্র এবং বাকি বিশ্ব উভয় পক্ষের জন্যই পরাজয়। একই সুর শোনা গেছে বিল গেটসের কণ্ঠেও।

Tags: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলো যুক্তরাষ্ট্র