• দেশজুড়ে
  • সাদ্দামের প্যারোলের আবেদন বাগেরহাটের ডিসির কাছে, পৌঁছায়নি যশোরে

সাদ্দামের প্যারোলের আবেদন বাগেরহাটের ডিসির কাছে, পৌঁছায়নি যশোরে

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সাদ্দামের প্যারোলের আবেদন বাগেরহাটের ডিসির কাছে, পৌঁছায়নি যশোরে

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের পরিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল।

স্বজনরা বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আবেদন করলেও সেটি যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছায়নি। পরে ডিসির বাংলো থেকে স্বজনদের জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি অনুমোদন হয়নি। তাই পরিবারের সদস্যরা সাদ্দামের মৃত স্ত্রী-সন্তানের লাশ নিয়ে আসেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। শনিবার সন্ধ্যায় জেলগেটে স্ত্রী-সন্তানকে শেষবিদায় জানান সাদ্দাম। এ অবস্থায় তাকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশুসন্তান নাজিফের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সাদ্দাম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি।

যশোর কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সব নিয়ম মেনে লাশ দুটি কারা ফটকে আনা হলে সাদ্দামকে সেখানে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পর স্ত্রীকে শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখেন এবং প্রথমবারের মতো নিজের মৃত সন্তানকে কোলে তুলে নেন তিনি। এ সময় উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের মধ্যে এক শোকাহত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

সাদ্দামের স্বজনদের ভাষ্য

স্বজনদের দাবি, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকায় তার স্ত্রী স্বর্ণালী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্বামীর মুক্তির কোনও পথ না পেয়ে চরম হতাশা থেকে প্রথমে শিশুকে পানির বালতিতে চুবিয়ে হত্যা করেন এবং পরে নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

সাদ্দামের পরিবার জানায়, কারাবন্দি সাদ্দাম মাঝে-মধ্যে স্ত্রীকে চিরকুট পাঠিয়ে ধৈর্য ধরতে বলতেন এবং দ্রুত মুক্ত হওয়ার আশ্বাস দিতেন। এসব বার্তা স্বর্ণালীর ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল পরিবার

সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার যখন লাশ দুটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়; তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই সাদ্দামকে শেষবারের মতো তার স্ত্রী-সন্তানকে দেখানোর। এরপর আমার মামা হেমায়েত উদ্দিন তার এক সহকর্মীকে নিয়ে যান বাগেরহাটের ডিসি অফিসে। ছুটির দিনে ডিসি অফিসে না থাকায় চলে যান ডিসির বাংলোতে। সেখানে ডিসিকে সব খুলে বলার পর সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তির আবেদনপত্রটি দিই। এরপর আবেদনপত্রটির এক কপি আমাদের দিয়ে দেন বাংলোর এক কর্মকর্তা। তবে সেটিতে রিসিভ করার কোনও স্বাক্ষর ছিল না। স্বাক্ষর না থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে বাংলোর কর্মকর্তা জানান, কোনও সমস্যা হবে না। পরে বাংলো থেকে জানানো হয়, প্যারোল অনুমোদন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাগেরহাটের ডিসি বলেছেন, তিনি নাকি আমাদের বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেন, যশোরের ডিসি ও কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। আসলে ডিসি এ ধরনের কোনও কথা আমাদের বলেননি। তিনি এই পরামর্শটা দিলে তো আমরা যশোরে যোগাযোগ করতাম। শেষমেশ আমরা নিজেরাই যশোরের জেলারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে কারা ফটকে কয়েক মিনিটের জন্য ভাইকে তার স্ত্রী-সন্তানকে দেখার অনুমতি দিলো যশোর কারা কর্তৃপক্ষ। আমরা তো এসব প্রক্রিয়া বুঝি না।’

প্যারোলে মুক্তির আবেদনপত্রে আবেদনকারী হিসেবে স্বাক্ষর আছে সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিনের। এ ব্যাপারে হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘২৩ জানুয়ারি বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তির জন্য লিখিত আবেদন করি। জেলা প্রশাসক আবেদনের এক কপি রেখে আরেক কপি আমাদের দিয়ে বাগেরহাট জেলা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কোনও এখতিয়ার তাদের নেই। আইন অনুযায়ী যে কারাগারে আসামি বন্দি, সেখানেই আবেদন করতে বলা হয়। পরে কোনও উপায় না পেয়ে যশোর কারাগারে লাশ নিয়ে গেলে মাত্র তিন মিনিটের জন্য দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।’

কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ভাই মো. শুভ বলেন, ‘স্বামী কারাবন্দি থাকায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল আমার বোন। মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিল। তবে অন্য কিছুও থাকতে পারে। এ জন্য প্রশাসনের কাছে ঘটনা তদন্তের দাবি জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটারে আমার দুলাভাই একবারও কোলে নিতে পারেনি। শেষবারের জন্য যেন একটু দেখতে পারে, তাই কারা ফটকে নিয়ে গিয়েছিলাম।’