এর আগে শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় এক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান ডাকসু নিয়ে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে বক্তব্য দেন। জনসভায় শামীম আহসান বলেছিলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’
এই বক্তব্যের পর সমালোচনার মুখে রবিবার সন্ধ্যার পরে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দেন শামীম আহসান। এতে তিনি বলেন, ‘গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটায় এক নির্বাচনি জনসভায় আমার এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অনেকেই মর্মাহত হয়েছেন। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে জাগোনিউজ২৪–এ “দিনে মাদকসেবীদের আড্ডা, রাতে যৌনকর্মীদের দখলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর মাদক সেবনে জড়িত থাকার ঘটনাও সামনে এসেছে এবং সে সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।’
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগে বর্তমানে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে আমরা পত্রপত্রিকায় দেখেছি। বিষয়টি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমার শব্দচয়ন ও প্রকাশভঙ্গিতে অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল হয়েছে। এ রকম অনভিপ্রেত ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সমীচীন ভাষা ব্যবহার করার চেষ্টা করবো।’
শামীম আহসান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। নারী-পুরুষ–নির্বিশেষে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানেও তাদের ভূমিকা আমাদের নতুন এক বাংলাদেশ এনে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক বক্তব্যে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একে অপরের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।’
শামীম আহসানের ওই বক্তব্যের ব্যাপারে বরগুনা-২ আসনের জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমেদ বলেন, ‘ওই বক্তব্য তার (শামীম আহসান) ব্যক্তিগত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের মানসম্মানের একটি স্থান এবং দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। ওই বক্তব্য তিনি না দিলেও পারতেন। তিনি ভুল স্বীকার করছেন।’