সেইসঙ্গে তিনি সাঁথিয়ায় বিএনপি মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমানের সঙ্গেই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) অধ্যাপক আবু সাইয়িদ তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা।
অধ্যাপক আবু সাইয়িদ একসময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।
২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১৪ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি গণফোরাম থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
এবারের নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে গত ২১ জানুয়ারি সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিলে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সেই সমালোচনায় আবারো ঘি ঢেলে শেষ মুহূর্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। পুনঃতফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২৭ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের কথা রয়েছে।
নিজের প্রার্থিতা এবং আবু সাইয়িদের যোগদান প্রসঙ্গে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান বলেন, ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী। তিনি আমার জন্যই ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইবেন। দল হয়তো ভবিষ্যতে তাকে অন্য কোনো উচ্চাসনে বসাবে।’
অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি।
তারা যেভাবে বলবেন, সেভাবেই কাজ করব।’ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বিষয়টিকে কেন্দ্রের ওপর ছেড়ে দিয়ে বলেন, ‘এটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ব্যাপার। এখানে আমার বলার কিছু নেই। তবে তার যোগদানে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।’
উল্লেখ্য, সীমানা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে নির্বাচন অনিশ্চিত হলেও হাইকোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনকে একক আসন হিসেবে বহাল রেখে নির্বাচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বর্তমানে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমানের ছেলে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নজিবুর রহমান মোমেন ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল গনি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।