• রাজনীতি
  • আচরণবিধি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে

আচরণবিধি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
আচরণবিধি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, বিভিন্ন জায়গাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে, হামলা হচ্ছে।

গত চারদিনে আমরা উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি; এটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয় তাহলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পরিস্থিতিটা আরও খারাপ হতে পারে।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, মাঠের পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন দেখছেন— জানতে চাইলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমরা এসব বিষয় নিয়ে ওভারঅল তাদের (ইসি) বলেছি। নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বিভিন্ন জায়গাতে। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির সঙ্গে নারীদের যে কথা আমরা বলেছি, তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গাতে হামলা করা হচ্ছে। গায়ে পড়ে এই সমস্ত হামলাগুলো করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন যদি ভূমিকা পালন করে তাহলে একটা সুন্দর লেভেল প্লেয়িং নিশ্চিত করা সম্ভব।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা গত কয়েকদিন থেকে দেখতে পাচ্ছি, আমাদের নির্বাচনি কার্যক্রমে নারী কর্মীরা যখন কাজ করতে বের হচ্ছেন তখন দেশের বিভিন্ন জায়গাতে তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। তাদের নাজেহাল ও অপদস্থ করা হচ্ছে। এবং কোনও কোনও জায়গাতে খুবই লজ্জাজনকভাবে তাদের নেকাব থাকলে— নেকাব খোলার জন্য বলা হচ্ছে। তাদের অনেকের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-১৫ আসনসহ ঢাকার বিভিন্ন আসন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনাগুলো পরপর ঘটে যাচ্ছে। আজকেও এই ধরনের ঘটনা কয়েকটি জায়গাতে ঘটেছে। এ সমস্ত বিষয়ে একটা বড় উদ্বেগ কাজ করছে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, যেখানে অর্ধেক হচ্ছেন নারী ভোটার। সেখানে নারীরা স্বাভাবিকভাবে নারীদের পক্ষ থেকে কথা বললে কমফোর্ট ফিল করে। এবং এটা ভালো দিক যে নারীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন এবং তারা ভোটের এই আয়োজনে ভূমিকা রাখছেন। আমরা তাদের জন্য একটি সুন্দর সেফ নিরাপদ পরিবেশ দিতে চাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য; একটি দলের পক্ষ থেকে আমাদের নারীকর্মীদের ওপর মারাত্মক ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। যেটি একটা উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। আমরা সিইসিকে বলেছি, নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি— এ ব্যাপারে উনারা যাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। রিটার্নিং অফিসার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা আছেন মাঠে কাজ করে, তারা যাতে সে ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, একটি বড় দলের পক্ষ থেকে তাদের নেতাকর্মীরা এই সমস্ত কাজগুলো করছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক যখন নির্বাচনি কাজে বের হচ্ছেন তখন সেখানকার স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের বিভিন্নভাবে কাজ করতে বাধা দিয়েছেন এবং কাউকে জরিমানা করেছেন। বলছে, যে আপনি তো নির্বাচনি কাজ করতে পারেন না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বলেছি, যেখানে একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তিনি করছেন, প্রার্থী হচ্ছেন। সেখানে একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কেনও ভোটকর্মী হতে পারবেন না; এটা আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কথা জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা প্রতিবারই এসে একটা বিষয় উনাদের (ইসি) বলেছি আজকেও সেটা বলেছি— ভোট কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন। বলেছেন, এ ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি, সার্কুলার দিয়েছি। কিন্তু তা এখনও দৃশ্যমান হয়নি।

জামায়াত কোনও নারী প্রার্থী কেন দেয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যেকোনও প্রার্থী সিলেকশনের ব্যাপারে আমাদের একটা নিয়ম ফলো করি। সেটা হচ্ছে আমরা স্থানীয়ভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে পরামর্শ নেই। পরামর্শের আলোকে আমরা প্রার্থী ঠিক করে থাকি। আমাদের তো যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন না। নারীরাও সরাসরি বলতে পারেন না, যে আমি প্রার্থী হতে চাই। এটা আমাদের দলের একটা ঐতিহ্য। পুরুষের ক্ষেত্রে পরামর্শের আলোকে যার সিদ্ধান্ত আসে তিনি মানতে বাধ্য কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে আমরা এটা বাধ্য করি না। নারীরা অনেকেই রাজনীতিতে আসতে চান কিন্তু ইলেকশনে আসতে চান না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের টোটাল ম্যানপাওয়ারের ৪০ শতাংশের ওপরে হচ্ছেন নারী। এটা অন্য দলে আমার মনে এতটুক নাই। আমরা আরেকটা প্রস্তাব দিয়েছি, যেটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের সংস্কার প্রস্তাবে আছে। যেখানে নয়জন পুরুষ মেম্বার থাকেন। বলেছি, ছয়জন মহিলা মেম্বার থাকা উচিত। যেহেতু দেশের অর্ধেক নারী সেহেতু নারীরা সমানসংখ্যক হওয়া উচিত।

অভিযোগ এসেছে জামায়াতের কর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে এনআইডি নাম্বার ও বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে— এমন প্রশ্ন করলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, কথাটা সম্পূর্ণ অসত্য। মহিলারা গিয়ে এনআইডি চেয়েছেন, বিকাশ নাম্বার চেয়েছেন এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাচ্ছি, নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে, তাদের অপমানিত করা হচ্ছে।

Tags: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ