মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে অস্থিরতার মেঘ জমছে। ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা Military Action নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল রাশিয়া। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তেহরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা জানান ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা ও রাশিয়ার উদ্বেগ
সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে গুরুতরভাবে অস্থিতিশীল করার পথে আরেকটি নেতিবাচক পদক্ষেপ হবে।” রাশিয়ার মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল ইরান নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও Strategic Stability-কে হুমকির মুখে ফেলবে।
পেসকভ আরও যোগ করেন, রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করে যাচ্ছে। মস্কো চায় না এই অঞ্চলে নতুন কোনো সংঘাতের সূচনা হোক। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে সর্বোচ্চ সংযম প্রত্যাশা করেন এবং জটিল বিষয়গুলো নিরসনে Peaceful Dialogue বা শান্তিপূর্ণ আলোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মার্কিন রণপ্রস্তুতি ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্ভাব্য হামলার সব ধরনের ব্লু-প্রিন্ট এবং প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকতে পারে। যদিও পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ছড়িয়ে পড়া এই খবরটি Geopolitics-এ নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
কূটনৈতিক সমাধানের পথে জোর মস্কোর
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে শক্তিশালী কৌশলগত সম্পর্ক বিদ্যমান। ফলে ইরানের ওপর যেকোনো হামলা রাশিয়ার স্বার্থকেও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে। মস্কো এর আগেও একাধিকবার সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের Military Intervention কেবল ধ্বংসাত্মক ফলাফল বয়ে আনবে। ক্রেমলিনের মতে, যেকোনো সমস্যার সমাধান Diplomatic Channel বা কূটনৈতিক পন্থায় হওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়া এই বিবৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা ইরানের পাশে রয়েছে এবং কোনো ধরনের একতরফা পদক্ষেপ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।