সভা-সমাবেশের মধ্য দিয়ে কিংবা পায়ে হেঁটে ভোটারদের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়নের বার্তা দিয়ে নিজেদের জন্য ভোট চাইছেন তারা। তবে ভোট চাইতে গিয়ে একে অপরের প্রতি কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক আচরণ করছেন কম-বেশি সবাই। এমনকি ভোটের প্রচারণায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
জানা যায়, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের ১১ দলীয় জামায়াত জোট প্রার্থী আরিফুল ইসলাম খিলক্ষেতের ডুমনি এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় যান। সেখানে নূরপাড়া আলিম মাদ্রাসা মাঠে পৌঁছানোর পর তার নির্বাচনি প্রচারণায় হামলা করা হয়। এতে অন্তত দুজন আহত হন। হামলার ঘটনায় নিজের জীবন নিয়ে নিরাপত্তার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই প্রার্থী।
হামলার ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির স্থানীয় ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। তার সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, মো. ইসরাফিল, মোহাম্মদ নাহিন, মোহাম্মদ রানা আহমেদ ও সোহেল আহমেদ।’ নিজের ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদি যেমন সাধারণ মানুষ ছিলেন, তেমনই আমি ও আমাদের নেতাকর্মীরা সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এবং আমরা সাধারণ মানুষদের নিয়েই চলি। নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আমি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ‘মানসিক চিকিৎসা’ প্রয়োজন: ইশরাক
ঢাকা-৮ আসনের ১০ দলীয় জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ উল্লেখ করে তার ‘মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে সূত্রাপুর এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। গত রবিবার পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় চাঁদাবাজ এবং জমিদারদের বিরুদ্ধে ঢাকা-৬ আসনের মানুষকে রায় দেওয়ার আহ্বান জানানোর বক্তব্যের বিপরীতে ইশরাক এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য মানসিক বিকারগ্রস্ততার পরিচয় দেয়। তার চিকিৎসা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজনৈতিক সৌহার্দ কীভাবে বজায় রাখতে হয় এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত—তা তাকে শেখানো দরকার।’
এর আগে অন্য আরেক সভায় ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে স্বাস্থ্যখাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। সেবা, নিয়োগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।’