• রাজনীতি
  • ‘দুর্নীতি রুখতে সরকারি কর্মীদের জন্য তৈরি করব সম্মানজনক বেতন কাঠামো’: দাউদকান্দিতে জামায়াত আমির

‘দুর্নীতি রুখতে সরকারি কর্মীদের জন্য তৈরি করব সম্মানজনক বেতন কাঠামো’: দাউদকান্দিতে জামায়াত আমির

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘দুর্নীতি রুখতে সরকারি কর্মীদের জন্য তৈরি করব সম্মানজনক বেতন কাঠামো’: দাউদকান্দিতে জামায়াত আমির

ক্ষমতায় গেলে সিঙ্গাপুর-সুইজারল্যান্ড নয়, মানবিক ও ন্যায়সংগত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমানের; ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার ডাক।

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এক যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তার দল সরকার গঠন করতে পারলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি সম্মানজনক ‘বেতন কাঠামো’ (Salary Structure) তৈরি করা হবে, যাতে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কাউকেই দুর্নীতির পথে পা বাড়াতে না হয়।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দর্শন তুলে ধরেন।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন

প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও সুশাসন (Good Governance) নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়তে চাই যেখানে সরকারি কর্মচারীরা সম্মানের সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন। তাদের জন্য আমরা যে বেতন কাঠামো তৈরি করব, তা হবে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ও সম্মানজনক। আমাদের লক্ষ্য হলো, একজন সরকারি কর্মীর প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা, যাতে তিনি কোনো ধরনের ‘দুর্নীতি’ (Corruption) বা অবৈধ উপার্জনের প্রতি আকৃষ্ট না হন।”

বিদেশে অনুকরণ নয়, দেশীয় ঐতিহ্যে আধুনিকায়ন

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে অনেক রাজনৈতিক দল সিঙ্গাপুর বা সুইজারল্যান্ডের আদলে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখালেও, ডা. শফিকুর রহমান কিছুটা ভিন্ন ও কৃষ্টি-নির্ভর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভোটের আগে অনেকে সুন্দর সুন্দর বুলি আওড়ান। কেউ বলেন বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাবেন, কেউ বলেন সুইজারল্যান্ড। আমরা এ ধরনের সস্তা শ্লোগান দিতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে বাংলাদেশই রাখতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো এ দেশের সমাজকে একটি ‘মানবিক ও ন্যায়সংগত সমাজ’ (Just and Humane Society) হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবে।”

ঐক্যবদ্ধ ১১ দলীয় জোট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি

বক্তব্যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি’ (Inclusive Politics)-এর ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামী কোনো একক আধিপত্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, “আমরা একা নির্বাচনে আসিনি। একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে নিয়ে আমরা এগোতে চাই। এজন্যই ১১টি সমমনা দল একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছি। জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ও কেন্দ্র সুরক্ষা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা ও সাহস সঞ্চার করেন জামায়াত আমির। তিনি কেবল ভোট দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে, ভোটকেন্দ্র পাহারার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনো দুর্বৃত্তকে এবার ভোট চুরি বা জালিয়াতি করতে দেওয়া হবে না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের হিসাব বুঝে নিয়ে বিজয়ী বেশেই ঘরে ফিরব।”

দাউদকান্দির এই পথসভাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যা নির্বাচনী মাঠে ১১ দলীয় জোটের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Tags: jamaat amir shafiqur