গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য আর কোটি কোটি ভক্তের উন্মাদনা—সবকিছুর কেন্দ্রে থেকেও মাঝেমধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তারকাদের মন। বিশেষ করে বর্তমানের ‘ডিজিটাল যুগে’ সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমাগত চাপ অনেক সময়ই ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি কেড়ে নেয়। বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী আলিয়া ভাটও এবার সেই একই পথের পথিক হতে চাইছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে পাকাপাকিভাবে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন এই ‘গাঙ্গুবাই’ তারকা।
মাতৃত্ব ও ডিজিটাল ডিটক্স: আলিয়ার নতুন ভাবনা
আলিয়া ভাটের জীবনের মোড় ঘুরে গেছে মা হওয়ার পর। কন্যা রাহার জন্মের পর থেকেই তিনি নিজের সময় এবং মনোযোগের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলিয়া জানিয়েছেন যে মা হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাওয়ার চিন্তাটি প্রায়ই তার মাথায় আসে। এমনকি মাঝেমধ্যে তার ইচ্ছা হয় নিজের সমস্ত ডিজিটাল একাউন্ট চিরতরে ‘ডিলিট’ (Delete) করে দিতে।
কেন এই বিরাগ?
আলিয়ার মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার অত্যধিক ব্যবহার একজন মানুষের কাজের স্বাভাবিক মনোযোগ বা ‘ফোকাস’ (Focus) নষ্ট করে দেয়। তিনি মনে করেন, স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোর ফলে জীবনের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে বা পরিবারের সঙ্গে কাটানো যেত। এই ‘ডিসট্র্যাকশন’ (Distraction) থেকে মুক্তি পেতেই তিনি মূলত ভার্চুয়াল জগত ত্যাগের কথা ভাবছেন।
ভক্তদের টানেই থমকে যাওয়া
তবে এত নেতিবাচক দিক থাকার পরেও আলিয়া এখনো কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়? এর উত্তরও দিয়েছেন তিনি নিজেই। আলিয়া বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া হলো একমাত্র মাধ্যম যেখান থেকে ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ (Direct Connection) স্থাপন করা যায়। দুই পক্ষই একে অন্যের অনুভূতি জানতে পারে। অনুরাগীদের এই অফুরন্ত ভালোবাসা এবং তাদের সঙ্গে জুড়ে থাকার তাগিদই আমাকে বারবার এই জগৎ ছেড়ে চলে যাওয়া থেকে আটকে দেয়।”
কঠোর গোপনীয়তায় আলিয়ার ডিজিটাল উপস্থিতি
পাকাপাকিভাবে বিদায় না নিলেও আলিয়া ইতোমধ্যে নিজের ডিজিটাল বিচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার জৌলুস কমিয়ে তিনি এখন ‘প্রাইভেসি’ (Privacy)-কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম (Instagram) অ্যাকাউন্টটি তিনি ‘প্রাইভেট’ করে রেখেছেন। এখন চাইলেই যে কেউ তাকে ফলো করতে পারছেন না; তার ব্যক্তিগত জীবনের আপডেট বা ছবি দেখার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বিশেষ অনুমতির।
বলিউডের ‘আইকন’ হয়েও আলিয়ার এই সাধারণ ও নিরিবিলি জীবন যাপনের ইচ্ছা ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকে তার এই মানসিকতাকে সাধুবাদ জানালেও, প্রিয় তারকার নিয়মিত আপডেট না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন ভক্তকুল। আলিয়া শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল দুনিয়া ত্যাগ করবেন কি না, তা সময়ই বলবে; তবে তার এই সিদ্ধান্ত যে এক বড় ধরনের ‘ডিজিটাল রিফর্ম’ (Digital Reform)-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।