ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের আলোচনা এখন তুঙ্গে। কোন দল পড়বে শিরোপার শেষ হাসিতে, আর কাদেরই বা থামতে হবে মাঝপথে—এ নিয়ে ক্রিকেট মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই উন্মাদনার মধ্যেই নিজের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে হাজির হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। তবে তাঁর ঘোষিত তালিকায় নেই বর্তমান ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গেছে ক্রিকেট অঙ্গনে।
সেমিফাইনালের তিন নিশ্চিত নাম ও চতুর্থ দলের লড়াই
এবি ডি ভিলিয়ার্স তাঁর বিশ্লেষণে তিনটি দলকে সেমিফাইনালের জন্য অবধারিত হিসেবে ধরে নিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমান ফর্ম এবং দলগত সংহতি বিচারে ভারত, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ চারে জায়গা করে নেবে। তবে চতুর্থ দল হিসেবে তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশকে বেছে না নিয়ে লড়াইটা উন্মুক্ত রেখেছেন তিন শক্তির মধ্যে। প্রোটিয়া এই তারকার মতে, চার নম্বর পজিশনের জন্য পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
নিউজিল্যান্ডকে বরাবরের মতোই টুর্নামেন্টের 'ডার্ক হর্স' (Dark Horse) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। কিউইরা আইসিসি ইভেন্টে সবসময়ই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো পারফর্ম করে থাকে, তাই তাদের সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
অস্ট্রেলিয়াকে বাদ দেওয়ার নেপথ্যে চমক
ডি ভিলিয়ার্সের সেমিফাইনাল তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার অনুপস্থিতি সবচেয়ে বড় বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অজিরা বড় টুর্নামেন্টে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় তা জানে, তবুও তাদের বাদ রাখাটা সাহসিকতার পরিচয় বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, এবারের কন্ডিশন এবং স্কোয়াড কম্পজিশনের (Squad Composition) নিরিখে ভারত, ইংল্যান্ড বা প্রোটিয়ারা অনেকটা এগিয়ে থাকবে।
চাপে থাকবে স্বাগতিক ভারত: ডি ভিলিয়ার্স
টুর্নামেন্টের স্বাগতিক হিসেবে ভারত ফেভারিটের তালিকায় সবার উপরে থাকলেও, ডি ভিলিয়ার্সের চোখে এটিই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করেন, মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক এবং দর্শকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা টিম ইন্ডিয়ার জন্য অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, "ভারত একটি দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ দল। সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ঈশান কিশানও চমৎকার ছন্দে আছেন। ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলিং ইউনিটেও অধিনায়ক হাতে প্রচুর অপশন পাচ্ছেন। কিন্তু স্বাগতিক দেশ হিসেবে তাদের ওপর যে 'হোম প্রেশার' থাকবে, তা সামলানোই হবে মূল কাজ।" মাঠের বাইরের প্রশাসনিক বিতর্ক এবং সমর্থকদের আবেগ ভারতের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
নজরে থাকবে নবাগত ইতালি
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণ নবাগত দল হিসেবে ইতালির অংশগ্রহণ। ডি ভিলিয়ার্স বিশ্বাস করেন, অভিষেক আসরেই চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে তারা। ক্রিকেটের গ্লোবাল এক্সপ্যানশন বা বিশ্বায়নের এই যুগে ইতালির মতো দলগুলোর উত্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এই প্রোটিয়া গ্রেট।
সব মিলিয়ে, ডি ভিলিয়ার্সের এই ভবিষ্যৎবাণী বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেট প্রেমিদের মনে নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্স এই কিংবদন্তির ভবিষ্যদ্বাণীকে কতটা সত্য প্রমাণ করে।