সরাসরি বিজয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত
যুক্তরাষ্ট্রের (United States) সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ইরানের কৌশল (Iran's Strategy) নিয়ে সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি (Tasnim News Agency)-তে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মাধ্যমে তেহরান বিশ্ব অর্থনীতি (Global Economy) ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম।
ইরানের যুদ্ধ কৌশল: সহনশীলতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই দৃষ্টিভঙ্গি নতুন নয়, তবে এতে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা চোখে পড়ার মতো। প্রতিবেদনে একটি ধাপে ধাপে যুদ্ধ কৌশলের কথা বলা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্য হলো সরাসরি বিজয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য যুদ্ধের খরচ অসহনীয় করে তোলা।
মূল ভিত্তি: ইরানের কৌশলের মূল ভিত্তি হলো 'সহনশীলতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি' (Endurance and Disruption)।
কর্মপন্থা: যুক্তরাষ্ট্রের আঘাত সহ্য করা, আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করা।
বিজয় বনাম টিকে থাকা: US-এর সীমিত লক্ষ্য
ইরানের ধারণা: ইরান রাষ্ট্রব্যবস্থার টিকে থাকাকেই জয় হিসেবে তুলে ধরছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য: ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্দেশ্য সাধারণত প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা ও পারমাণবিক বিস্তার ঠেকানো। কোনো দেশ দখল করা বা সরকার উৎখাত করা তাদের লক্ষ্য নয়।
এই ভিন্ন মানদণ্ডের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে ইরান সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও কূটনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়লেও নিজ দেশে বিজয়ের ঘোষণা দিতে পারবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ জনমত ধরে রাখা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এ ধরনের ঘোষণার তেমন কোনো মূল্য থাকে না।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করা
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাত বাড়িয়ে দিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে (Major Shock to Global Economy)। এ কারণেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের।