সূর্যবংশীর তাণ্ডব ও রেকর্ডের হাতছানি
হারারেতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে বৈভব সূর্যবংশী যে ইনিংসটি খেললেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ৮০ বলে ১৭৫ রানের এই ইনিংসে ছিল ১৫টি বিশাল ছক্কা ও ১৫টি বাউন্ডারি। লক্ষ্যণীয় বিষয়, প্রথম ২৪ বলে তিনি করেছিলেন মাত্র ২৪ রান। এরপর শুরু হয় তাঁর তাণ্ডব, যেখানে শেষ ৫১ বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৫৬ রান। ৫৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসের সৌজন্যে ভারত ৫০ ওভারে ৪১১ রানের বিশাল স্কোর গড়ে, যার জবাবে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেমে যায় ৩১১ রানে। ভারত ম্যাচটি জেতে ১০০ রানের বড় ব্যবধানে।
এই ইনিংসকে অনেকে আইসিসি ট্রফির ফাইনালে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর বলে দাবি করছেন। বারবার তাঁর ইনিংসের সঙ্গে তুলনা আসছে কপিল দেবের ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের সেই রূপকথার ১৭৫ রানের ইনিংসের। কপিল যেখানে ইংল্যান্ডের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই রান করেছিলেন, বৈভব সেখানে জিম্বাবুয়ের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়লেন।
প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মুগ্ধতা
বৈভব সূর্যবংশীর এই ব্যাটিং শৌর্যে মুগ্ধ হয়েছেন বহু সাবেক ক্রিকেটার। ভারতের প্রাক্তন তারকা বীরেন্দ্র শেবাগ যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, "৮০ বলে ১৭৫। ১৫টা চার, ১৫টা ছয়। সমপরিমান চার-ছয়, সমপরিমান ধ্বংস। সূর্যবংশী— সূর্য-সাম্রাজ্যের ছেলে। আজ সে ভাবেই খেলল। একে থামানো যায় না। ভারতীয় ক্রিকেটে সূর্যোদয়। ভবিষ্যতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে"।
দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেল স্টেইন মন্তব্য করেছেন, "মনে হয় স্কুল জীবন শেষ করার আগেই আইপিএল জিতে নেবে বৈভব"। অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব একে 'অবিশ্বাস্য ইনিংস' এবং 'ফাইনালেই এই রকম ইনিংস খেলল' বলে প্রশংসা করেছেন। ইউসুফ পাঠান বৈভবকে 'নিখাদ প্রতিভা' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, "বৈভব সূর্যবংশী শুধু একটা ইনিংস খেলেনি, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যেন লিখে দিল"।
বৈভবের নিজের কথা ও কোচের স্বপ্ন
বিহারের সমস্তিপুরে জন্ম নেওয়া এই কিশোর ম্যাচ ও প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "নিজের ব্যাটিং দক্ষতার উপরে আস্থা ছিল আমার। জানতাম, বড় ম্যাচে ঠিক অবদান রাখতে পারব। আজ সেটাই হল। আমরা নিজেদের উপরে কোনও চাপই নিইনি"।
মাত্র ১৪ বছর বয়সেই তাঁর নামের পাশে যে পরিসংখ্যান যুক্ত হয়েছে, তা অনেক ক্রিকেটারের সারা জীবনেও হয় না। আইপিএলে শতরান, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শতরান, মুস্তাক আলি ট্রফিতে শতরান, বিজয় হজারেতে শতরান, ভারতীয় এ দলের হয়ে শতরান— একের পর এক কৃতিত্ব গড়েছেন তিনি। বৈভবের কোচ সৌরভ কুমার তাঁর ছাত্রকে এবার সিনিয়র দলে দেখতে চাইছেন। তিনি মনে করেন, বৈভব সিনিয়র দলে খেললে ২০ ওভারে ৩০০ রানও তোলা সম্ভব। তাঁর কোচ আরও জানান, বড় টুর্নামেন্টের মাঝে বৈভবের সঙ্গে তিনি বেশি কথা বলেন না, যাতে সে বিভ্রান্ত না হয়।