নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত রাইসুল ইসলাম সীমান্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিকের বড় ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্যাং কালচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি আতঙ্ক ছড়িয়ে আসছিলেন।
জনতার হাতে আটক ও পুলিশের পদক্ষেপ
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় সীমান্তকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। এসময় জনতা তাকে ঘিরে ধরে এবং গণধোলাই দেয়। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
বিপুল সংখ্যক মামলার পাহাড়
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তকে জনতা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ ১৮টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো থানায় আরও মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ত্রাসের রাজত্ব
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আশ্রয়ে এই কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। পুরো সিদ্ধিরগঞ্জজুড়ে ‘টেনশন’ গ্রুপের ব্যানারে চাঁদাবাজি, মারধর ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।